৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩৫
শিরোনাম:

প্রবাসীদের ইমো আইডি হ্যাক, তিন মাসে ৫০ লাখ আত্মসাৎ

গত তিন মাসে প্রবাসীদের ইমো আইডি হ্যাক করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র। প্রতারকরা প্রবাসীদের টার্গেট করেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা ইমো হ্যাক করার পর আত্মীয়-স্বজনদের কাছে জরুরি মেসেজ পাঠিয়ে টাকা চেয়ে নিত। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সোমবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. আব্দুল মমিন, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবি, মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদ, মো. সাব্বির, মো. চাঁন মোল্লা এবং মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এবং হ্যাকিং কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ১৯টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নুরুল ইসলামের বড় ভাই কাতার প্রবাসী কাশেমের ইমু আইডি থেকে একটি মেসেজ আসে। মেসেজের বার্তাটি ছিল- ‘আমার টাকার প্রয়োজন, আমি বিকাশ নম্বর পাঠাইলে টাকা দিও’। পরের দিন দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী নুরুল ইসলামের ইমু আইডিতে আরও একটি মেসেজ আসে- ‘আজকে বিকাশের রেট কত? ২৫ হাজার টাকা পাঠানো যাবে’। এরপর আরও কয়েকটি মেসেজ ও ভয়েজ মেসেজ আসে। পরে নুরুল ইসলাম সেই মেসেজের ওপর ভিত্তি করে হ্যাকারদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে তিনবারে ৬৫ হাজার টাকা সেন্ড করেন। পরবর্তীতে নূরুল ইসলাম তার বড় ভাইয়ের ইমো আইডি বন্ধ পেলে তার ভাবির ইমো আইডি থেকে বড় ভাই মো. আবুল কাশেমকে ৬৫ হাজার টাকা পাঠানোর কথা জানায়। প্রতিউত্তরে তার বড় ভাই কাতার প্রবাসী কাশেম তার ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সেই ইমো আইডি থেকে বিভিন্ন ইমো আইডিতে মেসেজ দিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে। নুরুল ইসলাম তার প্রবাসী বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে, তার টাকা হ্যাকাররা সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে নুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য মতে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পরের যোগসাজসে তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ ইমো আইডি হ্যাকিং চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা দেশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির ইমো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করতো। তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির ওয়ারী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এই চক্রটির দৌরাত্ম নাটোর ও রাজশাহী এলাকায় বেশি। তবে এরা মাদারীপুর জেলা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা খুব স্বল্প শিক্ষিত। তারা সপ্তম অথবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এই চক্রটি তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছে। পিন নম্বর হাতিয়ে নেয়। পরে ওই পিন নম্বর নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছে। আজ পর্যন্ত তারা ৫০ লাখ টাকার মতো আত্মসাৎ করেছে। প্রবাসীদেরকে টার্গেট করেই তারা ইমো হ্যাক করে। পরে তাদের আত্মীয়-স্বজন সেজে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন।

Loading