বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘নেতাকর্মীদের যত নির্যাতন করা হবে ততই শক্তিশালী হবে বিএনপি। হামলা-মামলা করে তাদের আর দমানো যাবে না।’
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ থেকে আমরা ১০ দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। ১০ দফার মুলকথা ছিল, এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অবৈধ সংসদ বাতিল করতে হবে। এদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে। এদেশের মানুষ যাতে নিজের হাতে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দমত প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। এদেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’
‘বিএনপি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে‘ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বিভিন্নভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করছে। তাদের সত্যের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, এ ধরনের কথা বলে দেশের জনগণকে তারা বিভ্রান্ত করতে চায়। এরা গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে দিনের ভোট রাতে করে। গায়ের জোরে। এদেশের রাষ্ট্র কাঠামো একটি একটি করে ধ্বংস করেছেন আওয়ামী লীগ।’
আওয়ামী লীগই দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল বলে মন্তব্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখনই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেই, সরকার তখনই বলে আমরা নাকি ভায়োলেন্স করব। অথচ আওয়ামী লীগের আমলে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে দেশের ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল।’
ড. মোশরারফ বলেন, ‘৭২ থেকে ’৭৫ এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সে সময় তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে, বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। এই দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে তারা লুটপাটের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করেছিল।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা আবারো ২০১৪, ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। আজকে আলোচনা করবেন না, উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলবেন না! ওনার মন মতো উনি নির্বাচন করবেন! আমরা বলতে চাই, ১৪ সাল এবং ১৮ সাল ভুলে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশের নির্বাচন হলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটা যদি আপনি না করেন। তবে ৫২, ৬৯, ৯০ এর মত আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তার অধীনে নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ জনগণের সরকার নির্বাচিত হবে। সেই সরকার হবে বিএনপি সরকার।’
মহিলা দলেরর সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর নেতারা।
![]()