২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৫৪
শিরোনাম:

প্রচারণায় নামলে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে পেটানোর হুমকি

চতুর্থ ধাপে আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহীর বাঘা পৌর নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। তবে নির্বাচনে স্বতন্ত্র মোড়কে জামায়াত-বিএনপি স্বস্তিতে থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর রোষানলে পড়ার অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আক্কাছ আলী। তিনি মেয়র পদে স্বতন্ত্রভাবে জগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানা গেছে, পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৫৬ জন প্রার্থী। সকলেই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয়ে এ প্রচারণা চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত। নিজেদের পরিচয় দিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন করছেন প্রার্থীরা। সমর্থক-কর্মীদের নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নির্বাচিত হলে কি ধরনের উন্নয়ন করবেন তার ফিরিস্তি তুলে ধরছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে।

তবে ৬১ প্রার্থীর ৬০ প্রার্থীই স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা ব্যাপক বাধা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য (বর্তমানে বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্কাছ আলী।

তিনি বলেন, ‘দলের সমর্থন পাইনি। তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। জনগণ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আমার পক্ষে গণজোয়ার দেখে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ভাইসহ অতি উৎসাহী একটি অংশ নির্বাচনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। আমাকেসহ আমার কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এসব বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণসহ জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর একাধিক অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

মো. আক্কাছ আলী বলেন, ‘নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এমন নিষ্ক্রিয়তায় ভোটারদের মাঝে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে করে ভোটাররা বিব্রত হচ্ছেন। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, অবিলম্বে এ নির্বাচনে ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’তৈরি করুন। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয়ী হয়ে অবহেলিত পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেছি। আমি পৌরবাসীসহ উপজেলাবাসীর সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থেকেছি। সে কারণেই একটি পক্ষ আমার প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়েও জনগণকে আমার দিক থেকে মুখ ফেরাতে পারেনি। বিগত দিনে জনগণ আমাকে দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার পৌর মেয়র নির্বাচিত করেছে। এবারও আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে ইনশাল্লাহ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহিনুর রহমান পিন্টু। পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার বর্তমান এই প্যানেল মেয়র বলেন, ‘দলছুট বিদ্রোহী প্রার্থীকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে তিনি ভুল করেছেন। নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, নৌকা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতীক। আমি প্যানেল মেয়র থাকাকালীন পাঁচ বছরে জনগণের জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেছি। সব দিক বিবেচনা করলে আমার বিশ্বাস, জনগণ আমাকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবেন।’

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও পৌর নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুজিবুল আলম বলেন, ‘জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর বেশ কিছু অভিযোগের বিষয়ে অবগত হয়েছি। কেউ যেন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারেন সেজন্য নির্বাচনী এলাকায় আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। কেউ দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বাঘা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহিনুর রহমান পিন্টু ও বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আক্কাছ আলী ছাড়াও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে মেয়র পদে লড়ছেন কম্পিউটার প্রতীকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি (বহিষ্কৃত) কামাল হোসেন ও নারিকেল গাছ প্রতীকে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম।

এ ছাড়াও মোবাইল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নির্দলীয় ইসরাফিল আলম। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ৩১ হজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫৮১২ এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৮৫৭ জন।

Loading