২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৪৭
শিরোনাম:

ভোট দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন ভোটাররা : মোস্তফা

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) জটিলতায় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ভোট দিতে না পেরে ভোটাররা বিমুখ হয়ে ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তিনি মৌখিকভাবে এসব অভিযোগ করেন। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন উপস্থিত না থাকায় তার স্টাফ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সেখান থেকে বের হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করেছিলাম ইভিএমে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করতে পারবো। কিন্তু আমরা যখন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলাম তখন জানতে পারলাম ইভিএমে ত্রুটি। ফিঙ্গার প্রিন্ট দিলে প্রিন্ট আসছে না, উনারা (নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা) বলছেন কিছু সমস্যা হওয়ার কারণে দীর্ঘ লাইন হয়েছে। যেমন কোনো কেন্দ্রে ৮টি বুথ আছে, সেখানে ২টি বুথে সমস্যা। এমনকি সকালে আমি আমার কেন্দ্রে নিজেই ইভিএমের ক্রটির মধ্যে পড়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের লাইনে বয়স্ক পুরুষ-মহিলা লাইনে অপেক্ষা করতে করতে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এতে করে ভোট কাস্ট কম হবে।

আগের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মেয়র প্রাথী মোস্তফা আরও বলেন, আগের ভোটে বিকেল ৩টার মধ্যে ৭০-৭৫ শতাংশ ভোট পোল হয়ে যেত। এতক্ষণ কেন্দ্রে ভোটার থাকতো না। কিন্তু এবার ইভিএমের জটিলতার কারণে ভোট কাস্ট কম হবে। এতে আমি যা আশা করেছিলাম আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভোট কাস্ট কম হওয়ায় হয়তো ভোটের ব্যবধান কম হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ভোটারদের স্মার্ট কার্ড থাকার পরও তারা ভোট দিতে পারছেন না। আমরা এখানে বলতে এসেছি যে, ভোট কাস্টিং কম হবে। আমাদের যে প্রত্যাশা, আমরা যেভাবে কাজ করেছি, মানুষজন পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে তা তারা দিতে পারছেন না। এই অভিযোগটি জানাতেই নির্বাচন অফিসে এসেছি।

তিনি ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ভোটের সঙ্গে নিয়োজিত র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ম্যাজিস্ট্রেটদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ইভিএম ত্রুটির কারণে ভোটের প্রত্যাশা পূরণ হলো না। ভোটটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী যাবে না। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ভোটাররা কেন্দ্রে আসলেও সকলেই ভোট দিতে পারলেন না। আগামী নির্বাচনে কীভাবে যে ইভিএমে ভোট হবে আমার জানা নেই।

তার এই অভিযোগ করার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন মেয়রকে আশ্বস্ত করে বলেন, কেন্দ্রের মধ্যে ভোটার থাকলে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট দেবেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, আসলে ভোট দিতে বিলম্ব হয়েছে। এই সিস্টেম বয়স্ক মানুষের বুঝতে অসুবিধা হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবার মেয়র পদে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন সর্বমোট ২৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩০নং ওয়ার্ডে একজন সাধারণ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

Loading