২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:১৭
শিরোনাম:

‘যৌতুকের জন্য’ স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কাটলেন স্বামী

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর উপজেলায় খুরশিদা আকতার (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটস্থল থেকে স্বামী মোহাম্মদ এয়াকুবকে (৪০) আটকের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আজ রোববার দুপুরে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা রওশন আরা বেগম। এরপর আদালতে দুপুরের পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাঈনুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি ঘটনার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত স্বামী। জবানবন্দিতে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন জানান ইয়াকুব। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া চাঁনপুর প্রধান সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ এয়াকুব উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর লিচুতলার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা রওশন আরা বেগম জানান, ১০ বছর আগে পাশের গ্রামের মোহাম্মদ এয়াকুবের সঙ্গে বিয়ে হয় খুরশিদা আকতারের। তাঁদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন স্বামী। এ নিয়ে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের পর একাধিকবার স্থানীয়দের বৈঠকও হয়েছে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাতাকে অনেক সময় মোটা অঙ্কের টাকাও দিয়েছেন শ্বশুর ও শাশুড়ি। নির্যাতনের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে পালিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন খুরশিদা। এরপর সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন বাঁশখালী নিয়ে গিয়ে খুরশিদার হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন স্বামী এয়াকুব।

গতকাল শনিবার বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া চাঁনপুর প্রধান সড়কের পাশে একটি জঙ্গলে আহত অবস্থায় খুরশিদা আকতারকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ এয়াকুবকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা। শনিবার বিকেলে আহতকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গৃহবধূর স্বজনেরা জানান, বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাপের বাড়িতে চলে আসেন খুরশিদা। সন্ধ্যায় স্বামী এসে জোর করে নিয়ে যান তাঁকে। এরপর শনিবার কবিরাজ দেখানোর কথা বলে বাঁশখালী নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে দুই হাত ও এক পায়ের রগ কেটে দেন তাঁর স্বামী।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর ফুপা শহর বানু বলেন, ‘শনিবার ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা স্বামীকে আটক করে। পরে সেখান থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফোন এয়াকুব বলে—তোদের মেয়েকে জবাই করে দিয়েছি, এসে নিয়ে যা।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক বলেন, ‘হাত ও পায়ের রক কাটা অবস্থায় এক নারীকে নিয়ে আনা হয়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরির আঘাত ছিল।’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সুমন চন্দ্র বণিক বলেন, ‘শনিবার বাঁশখালীতে এক হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাঁশখালীর পুকুরিয়া চাঁনপুর প্রধান সড়কের পাশে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধারালো ছোরা দিয়ে দুই হাত ও এক পায়ের রগ কেটে দেন তাঁর স্বামী। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন এসে তার স্বামীকে আটকে ফেলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় থানায় আহতের মা একটি মামলা করেছেন।’

Loading