২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:২৭

পার্লামেন্ট, ইটস এ ‘ক্লাব’ অব আওয়ামী লীগ: মির্জা ফখরুল

জাতীয় সংসদকে সরকার ‘একদলীয় ক্লাবে’ পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা দেখুন, গণতান্ত্রিক যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ওরা (সরকার) ধ্বংস করেছে। পার্লামেন্ট। পার্লামেন্ট কী? এখন যে পার্লামেন্ট তারা তৈরি করেছে এটা কোনো পার্লামেন্ট। এটা একদলীয় একটা ক্লাব তৈরি করেছে। ইটস এ ক্লাব অব আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনি ব্যবস্থা ধবংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের গেটওয়ে হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা। নির্বাচন করে আপনি দেশ চালানোর জন্য পার্লামেন্ট তৈরি করবেন, মন্ত্রিসভা গঠন করবেন… তাই না। সেই নির্বাচনি ব্যবস্থাকে তারা ধবংস করে দিয়েছে। মানুষ ভোটই দিতে যায় না। ভোট দিয়ে কী হবে? ভোট তো আমার থাকবে না, আমার ভোট তো অন্যজন নিয়ে যাবে। এজন্য যতকিছু কারসাজি করা দরকার তারা (সরকার) করেছে। কখনো ১৫৪ জনকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোষণা করে দেওয়া, কখনো যে তারিখে ভোট তার আগের রাত্রে ভোট করে নেওয়া এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে তাদের পক্ষে ঘোষণা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা। এই যে কাঠামোটাকে তারা নষ্ট করেছে।

২৭ দফার রূপরেখাকে বিএনপির স্বপ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চয়ই এটা জনগণের সামনে তুলে ধরব। এটা একটা ড্রিম। ড্রিম ছাড়া কখনো সফল হওয়া যায় না। আমরা স্বপ্ন দেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই যে, তিনি সঠিক সময়ে দলকে সঙ্গে নিয়ে এই রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন এবং ইতোমধ্যে আমাদের জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদকে বলব, এ বিষয়ে সারাদিন ধরে ওয়ার্কশপ করুন। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পেশাজীবীদের নিয়ে মতামত নিয়ে আমরা যেন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দিতে পারি সেজন্য উদ্যোগ নেবেন।

‘দেশের জনগণের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা, ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে অপমান করে সপ্তম শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণির নতুন পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর নিন্দা এবং ওই সব বই প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। ১৯ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক কামরুল আহসান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাম হাফিজ কেনেডী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুর রহমান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ বক্তব্য রাখেন।

এ আলোচনায় পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে জিয়া পরিষদের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাকির হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের ডা. রফিকুর ইসলাম বাচ্চু, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাবের আসাদুজ্জামান চুন্নু, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের শহীদুল ইসলাম তাদের মতামত তুলে ধরেন।