২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:২২
শিরোনাম:

প্রেমের দ্বন্দ্বে জেসি হত্যা, তিন দিনের রিমান্ডে প্রেমিক বিজয়

মুন্সিগঞ্জে চাঞ্চল্যকর দশম শ্রেণির স্কুলশিক্ষার্থী জেসি মাহমুদ (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিজয় রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর বিচারিক আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এসময় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সিগঞ্জ সদর ফাঁড়ির পরিদর্শক এসএম শফিকুল ইসলাম। পরে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যশিতা ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক জামাল হোসেন। তিনি জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিজয়কে নিয়ে র‌্যাবের গাড়ি সদর থানায় এসে পৌছায়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিউটি অফিসারের কক্ষে। সেখানে আইনগত প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া থানা-পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে।

অভিযুক্ত বিজয়কে শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের আগে সে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিল। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে তার এক বন্ধুর বাড়িতে ৪ দিন, ফরিদপুরের একটি মাজারে ছদ্মবেশে ২২ দিন ও সর্বশেষ রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় আরেক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হয় বিজয়।

রোববার দুপুরে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র‍্যাব সদরদপ্তর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

এসময় তিনি জানান, শনিবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে জেসি হত্যার আসামি বিজয় রহমান (২২) কে গ্রেপ্তার করে। বিজয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিজয় ২০১৯ সালে একই স্কুলে পড়ুয়া জেসি হত্যা মামলার অপর আসামি আদিবা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। আদিবার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীন সময় বিজয় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ভিকটিম জেসিকার সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। বিজয় উভয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রেখে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদিবাকে গোপনে বিয়ে করে।

পরে বিজয় ও আদিবার বিয়ের কথা জেসি জানতে পারে এবং বিজয়ের সঙ্গে তার বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট আদিবার মেসেঞ্জারে পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে বিজয় ও আদিবার মাঝে বিভিন্ন সময় কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া-বিবাদ হলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে বিজয় আদিবার সঙ্গে আলোচনা করে এবং ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি উভয়ে মিলে জেসিকে বিজয়ের বাসার ছাদে ডেকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে।

পূর্ব-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন ৩ জানুয়ারি বিকেলে আদিবা জেসির সঙ্গে দেখা করলে বিজয়ের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ের কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখায় এবং ওই সমস্যা মীমাংসা করার জন্য আদিবা জেসিকে বিজয়ের বাসার ছাদে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে আদিবা ফোন করে বিজয়কে ছাদে আসতে বলে। এরপর সেখানে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে বিজয় ও আদিবা জেসির গলাটিপে ধরলে শ্বাসরোধ জেসি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য জেসি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার নাটক সাজানোর উদ্দেশ্যে বিজয় ও আদিবা মিলে জেসিকে অজ্ঞান অবস্থায় ছাদ থেকে নামিয়ে এনে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে বাসার ভিতরে চলে আসে। পরবর্তীতে পাশের বাসায় থাকা বিজয়ের চাচা জেসিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে বিজয় এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাসা থেকে নেমে আসে। একপর্যায়ে বিজয় এবং তার বাবাসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জেসিকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এসময় বিজয় জেসির ভাই জিদানকে জেসির অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে আসতে বলে। জেসির ভাই হাসপাতালে এসে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। ঢাকায় নেয়ার পথে জেসি পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Loading