৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২৩
শিরোনাম:

নওগাঁর বদলগাছিতে গ্রামবাসীর হাতে আটক এক আদম ব্যাপারী 

মোঃ ফারুক হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা সদরের সদর ইউপি’র তেজাপাড়া গ্রামে গ্রামবাসীর হাতে আদম ব্যাপারী আটক হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়।

জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা সদরের সদর ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আলতাফ উদ্দিন (৪৭) পিতাঃ মৃত ঠুনু মন্ডল, সাং তেজাপাড়া নিকট হতে গত সেপ্টেম্বর-২০২২ইং তারিখে চিহ্নিত আদম ব্যাপারী মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতাঃ খাকসার আলী মন্ডল সাং ভবানীপুর ইউপি’র তিলিকপুর, উপজেলা নওগাঁ সদর, জেলাঃ নওগাঁ। তিনি (রফিকুল) তাকে (আলতাফকে) মালেশিয়া পাঠানোর নাম করে তার নিকট হতে নগদ তিনলক্ষ টাকা আদায় করেন এবং তাকে বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে মালেশিয়া পৌঁছে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু টাকা নিয়ে যাবার পর ভূক্তোভোগী পরিবার এবং আলতাফ এর সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

এমতাবস্থায় ভূক্তোভোগী পরিবার ও আলতাফ তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি তার মুঠোফোনটি রিসিভ করেনা। এছাড়াও আলতাফ এর মারফত মোঃ দুলাল হোসেন, পিতাঃ মোঃ সাইদুল ইসলাম, সাং খামার আক্কেলপুর উপজেলা বদলগাছি, জেলাঃ নওগাঁ। মোঃ শাহিনুর আলম পিতাঃ মোঃ রইছ উদ্দিন সাং নান্দাস উপজেলা পত্নীতলা জেলা নওগাঁ। মোঃ হাছান আলী সাং হাপানিয়া বদলগাছি নওগাঁ। মালেশিয়া পাঠানোর নাম করে তিনজনের নিকট হতে নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও তাদের কাছে থাকা পাসপোর্ট নিয়ে চলে যান এবং তাদের সাথে ও সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

ভূক্তোভোগী আলতাফ এর ভাবী জানান গত কয়েক মাস পূর্বে রফিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে তাদের নানাবিধ হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার অনুসন্ধানে একাধিক গ্রামবাসী জানান, এক বছর আগে আমাদের সামনেই আলতাফ তার জায়গা জমি বিক্রি করে মালেশিয়া যাবার জন্য নগদ তিনলক্ষ টাকা রফিকের কাছে দেন। টাকা নিয়ে গিয়ে সে বিভিন্ন হুকমি ধামকি দিয়ে আসছে এবং পায়তারা করছে। এ নিয়ে তার পরিবারে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। কত দু-তিন মাস আগে তার স্ত্রী তার সন্তানদের অভিমান করে তার স্ত্রীর বাবার বাড়ি গিয়ে আর ফিরে আসেন নি।

ঘটনার অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯ টায় মোঃ হাছান আলী রফিককে ফোন করে বলেন যে, আরও কয়েকজন দেশের বাইরে যাবে এ নিয়ে আপনার সাথে আলোচনা আছে আপনি আলতাফ এর বাসায় আসেন। হাছান এর কথা মতো রফিক সকাল ১০টায় তেজাপাড়া গ্রামের আলতাফ এর বাসায় আসেন। এমতাবস্থায় ভূক্তোভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী চিহ্নিত আদম ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম কে আটক করে ফেলেন। সে আলতাফ বাসায় থাকা অবস্থায় টাকা না দেওয়ার পায়তারা করে এবং বিভিন্ন দালালদের ফোন করেন। এছাড়াও তিনি জনসম্মুখে কম্পিউটার থেকে তৈরি করা বিভিন্ন ভূয়া কাগজ পত্র যেমন- ইসলামি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর জমা রশিদ ভূয়া তালিকা তার মোবাইলে তোলা ছবি প্রর্দশন করেন। স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ তার নিবন্ধন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অফিসের অফিসার সাজিয়ে দালালের সাথে মুঠোফোনে কথা বলান।

এমতাবস্থায় স্থানীয় মেম্বার মোঃ আনিছুর রহমান তার (রফিকের) ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন ও উক্ত গ্রামের জনসাধারণ তা মেনে নেন। এমতাবস্থায় নওগাঁ সদর উপজেলাধীন তিলিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম ও তিলিকপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তিবর্গ রাত ১০ টায় ঘটনাস্থল তেজাপাড়া গ্রামে এসে পৌঁছেন এবং সালিশি বৈঠক করেন।

উক্ত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তিলিকপুর ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম, বদলগাছি সদর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আনিছুর রহমান, গ্রাম্য মাতবর গুলবর রহমান, ভূক্তোভোগী আলতাফ, হাছান, শাহিনুর, আটককৃত আদম ব্যাপারী রফিকুল গ্রামবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ।

উক্ত সালিশি সভায় রফিকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নগদ তিনলক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম এর জিম্মায় তাকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয় এবং নিবন্ধন বিহীন মটরসাইকেলটি যার (আনুমানিক মূল্য একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) বদলগাছি ইউপির ০৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আনিছুর রহমান এর জিম্মায় রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Loading