৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০২
শিরোনাম:

আশাশুনির বড়দল কলেজিয়েটের বিদায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হওয়ায় গাত্রদাহ শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির বড়দল আফতাবউদ্দীন স্কুল এন্ড কলেজের বিদায়ী অধ্যক্ষ ড. শিহাবুউদ্দীনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা বাণিজ্য অভিযোগ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হওয়ায় গাত্রদাহ শুরু হয়েছে অধ্যক্ষ শিহাবুদ্দীনের। তার মেয়াদকালে নিয়োগ সহ সকল সেক্টরে অনিয়ম দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ করে টাকার পাহাড় বানিয়েছে। তার এমন কর্মকান্ড প্রতিষ্ঠান এবং এলাকাবাসীকে ভাবিয়া তুলেছে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষের মনগড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাথের বিষয় প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ব্যক্তির চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করেছে। এছাড়া এ অধ্যক্ষ, নিয়োগের নামে আত্মসাৎকৃত কোটি টাকা জায়েজ করার জন্য এর মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে তিনি দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এদিকে আগামী জুনের মধ্যে ছয় পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে না পারলে কোটি টাকা এ অধ্যক্ষকে ফেরত দিতে হবে। এমন আশঙ্কায় অধ্যক্ষ নিজেই তার কর্মস্থল সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ছেড়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কমিটির অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে দেন-দরবার শুরু করেছে বলে কমিটির একটি অংশ জানিয়েছেন। সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০১৫ সালে অধ্যক্ষ শিহাবুদ্দীন বড়দল স্বনামধন্য এ কলেজে যোগদান করেন। যোগদানের পর স্কুল এন্ড কলেজটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। অনিয়ম দুর্নীতি, স্বজন প্রীতির আশ্রয় নিতে তার পছন্দের সভাপতি ডাঃ এস এম মোখলেছুর রহমানকে সভাপতি মনোনীত করেন। দীর্ঘ ৮ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান শাখাসহ অন্যান্য পদে ৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছে।

এছাড়া তার বিদায় লগ্নে অধ্যক্ষ পদে ১, ল্যাপ সহকারি ৩, অফিস সহায়ক ১, পরিচ্ছন্ন ১, কারিগরি ১ মোট ৭ জনকে নিয়োগ দেবেন বলে আনুমানিক এক কোটি টাকা গ্রহণ করেছে এ অধ্যক্ষ। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ২২ সালের শেষ পর্যন্ত কারিগরি শাখায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফরম, প্রবেশপত্র, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রদত্ত বেতন ১০ লক্ষ টাকা। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি ৮৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে কোটি টাকার মিশন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এ অধ্যক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবলুর রহমানকে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৩ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয়ের খরজের খাতা, ব্যাংক একাউন্টের চেক বই, রেজুলেশন খাতা, দায়িত্ব হস্তান্তরের কোন কিছু তার কাছে বুঝিয়া দেয়নি। অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, এলাকাবাসী তার উপর কলেজ সংক্রান্ত সকল বিষয় জবাবদিহিতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। আমি এখন উভয় সংকটের মধ্যে পড়ে আছি। আবার বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছে আমি বিদায়ী অধ্যক্ষের অপকর্মের সাড়া না দিলে আমার সাময়িক পদটি যে কোন মুহূর্তে শূন্য হতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার অজিত কুমার সরকার বলেন বড়দল স্কুল এন্ড কলেজের বিদায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এত অনিয়ম-দুর্নীতি এটা আমার জানা ছিল না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখে জানতে পারেছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক খতিয়ে দেখা হবে।

Loading