৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৭
শিরোনাম:

বাবা-মা থাকা ছাত্রীদের এতিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ-

স্টাফ রিপোর্টার গজারিয়া: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইস মানিরচর গ্রামের রাবেয়া হাতেম মহিলা এতিমখানা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ভুয়া এতিম ছাত্রী দেখিয়ে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ-১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন প্রদান এবং পরবর্তীতে নিবন্ধন প্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয়, যা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নামে পরিচিত।

তবে রাবেয়া হাতিম মহিলা এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নুরুল আমিন স্বীকার করেন যে অনেক এতিম ছুটিতে গিয়েছে তবে কত দিনের ছুটিতে গিয়েছে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি। মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বকুল এর সাথে যোগাযোগ করার বিষয়ে নুরুল আমিন অপরাগত প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন রাবেয়া হাতেম এতিমখানা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পারিবারিক সূত্রে দায়িত্ব পেয়ে একক নিয়ন্ত্রণে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি। কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসার মধ্যে সমন্বয় করে ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত ভুয়া এতিমের তালিকা তৈরি করা হয়।বাবা, মা, থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার গ্রান্টভুক্ত এতিমদের তালিকায় ছাত্রীদের নাম ব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন তিনি। মহিলা এতিমখানা ও মাদ্রাসার গ্রান্টভুক্ত এতিমদের তালিকায় দেখা যায় যায়, অনেক সচ্চল ছাত্রী এতিমখানার তালিকায় নাম আছে। মোট শিক্ষার্থীর ৫১ জন তালিকাটিতে ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রাপ্ত ৩৭ জন এতিমের নাম রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এতিমখানার দৃশ্যমান সাইনবোর্ডে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত সংখ্যা উল্লেখ নেই, প্রকল্পে এতিম ছাত্রদের তালিকা তৈরি, অর্থগ্রহণ ও বণ্টনে মানা হয়নি সরকারি নীতিমালা। মাদ্রাসায় পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকের বাবা-মা জীবিত আছেন। তাদেরও গ্রান্ট ক্যাপিটেশন এতিম হিসেবে দেখানো হয়েছে। কাগজে-কলমে দেখানো গ্রান্টভুক্ত এতিম শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসে এবং ভর্তি থেকে শুরু করে সব শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য তারা খরচ বহন করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাবেয়া হাতেম মহিলা এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ৫ থেকে ৬জন এতিম ছাত্রী আছে। এতিমখানার কর্মকর্তারা এতিমের নামে সরকারি অর্থ, আত্মসাৎ, বস্ত্র, ঔষধ, বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে এতিমখানা পরিচালক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাৎ এর বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

রাবেয়া হাতেম মহিলা এতিমখানায় সরেজমিনে ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্রী থাকতে দেখা গেছে। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বাবা-মা জীবিত আছেন এবং তারা টাকা দিয়ে এতিমখানায় ভর্তি হয়েছে। স্হানীয় এলাকাবাসীরা ও এমনটি জানান।

শিক্ষার্থী হোসনে আরা (ছদ্মনাম) জানায়, তার বাবা-মা জীবিত আছেন। সে প্রতিমাসে থাকা খাওয়া বাবদ টাকা প্রদান করেন। এরকম অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আছে টাকা দিয়ে এই এতিম খানায় পড়ালেখা করে।

এই এতিমখানাটি ২০০২ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়। নিবন্ধন নম্বর মুঃ০২৮১। এতিমখানায় কাগজে-কলমে ৫২ জন এতিম শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন এতিমের জন্য প্রতি মাসে ৭৪ হাজার টাকা করে বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। সরকারি ভাতা ৩৭ জন পেলেও সরেজমিনে মাদ্রাসায় নির্দিষ্ট পরিমাণ কোনো এতিম পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাবেয়া হাতেম মহিলা এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন দৈনিক আমাদের নতুন সময় কে জানান, সব কিছু সমাজ সেবা অফিস কে অবগত করা আছে। তার প্রতিষ্ঠানে এতিম আছে। এতিম কতজন আছে, অফিসে গেলে তা দেখা যাবে।

ভাটেরচর ইসলামিয়া এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড প্রাপ্ত ২০ জন, টেঙ্গারচর ইসলামিয়া শিশু সদন এতিমখানা ১২ জন, মাথাভাঙ্গা মহিলা শিশু সদন এতিমখানা ২৯জন, বড় বসুরচর এতিমখানা ১২জন, গজারিয়া বাতেনিয়া মান্নানিয়া শিশু সদন রসুলপুর ২১ জনের তালিকা থাকলেও সরজমিনে গিয়ে বাস্তবতা ভিন্ন পাওয়া যায়।

গজারিয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুনসুর আহমেদের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক

গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ পুলক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আমাদের নতুন সময় কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

Loading