৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩০
শিরোনাম:

শিয়াল, সাপ, মশার সাথে জঙ্গলের খুপড়িতে ১৭ বছর বসবাস মজিবুরের

মো. শাহিদুল ইসলাম, দেবিদ্বার (কুমিল্লা): সতেরো বছর জঙ্গলে খুপড়িতে শিয়াল, সাপ, বিচ্ছুসহ জীবজন্তুর সাথে অর্ধাহার-অনাহারে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস মুজিবুর রহমানের (৬০)।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন’র মাশিকাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া মৌলভী বাড়ির পাশে একটি জঙ্গলে যেয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিশাল একটি জঙ্গলের ঝোপ-বাঁশঝাড় পেড়িয়ে জঙ্গলের মধ্যভাগে যেয়ে দেখা যায় পলিথিনে মোড়ানো ছাউনির একটি ছোট খুপড়িতে বসে আছেন ৬০ বছর বয়সী চিরকুমার মুজিবুর রহমান।

প্রশাসনের লোকজন আসার সংবাদে বেড়িয়ে আসেন খুপড়ি থেকে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কান্নাবিজড়িত কন্ঠে খুপড়িতে বসবাস করার জীবনের গল্প শোনালেন মুজিবুর। অশ্রুসিক্ত নয়নে শুনলেন সবাই। অর্থ-বিত্তে সাজানো সংসার সৎ ভাইদের রোষানলে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করায় তাকে জঙ্গলেই ঠাঁই নিতে হয়েছে। জঙ্গলের খুপড়িতে থাকায় বিয়েটাও করতে পারেননি তিনি।

মুজিবুর রহমান জানান, তার সৎ ভাই জহিরুল ইসলামই তার পৈত্রিক সম্পত্তির ১০৫ শতাংশ জমির মধ্যে ৮৫ শতাংশ জমি লিখে নেয়। তাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেয়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় ২০০৭ সাল থেকে জঙ্গলে খুপড়ি বানিয়ে ঠাই নেই। বিয়ে করে বৌ রাখার ঘর নেই, তাই বিয়েটাও করতে পারিনি। মিলের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে ইলেক্ট্রিক লাইনের কাজ শুরু করি, বাম চোখটিও নষ্ট হয় গেছে। বয়স হয়েছে এখন কাজে নিতে চায়না কেউ। অর্ধাহার, অনাহারে রোদ, ঝড়-বাদলে, শেয়ালের হাক-ডাকের মাঝেই খুপড়ির মধ্যেই থাকি।

এ ব্যাপারে মুজিবুরের ভাই জহিরুলকে পাওয়া যায়নি। জহিুলের বড় ভাই ফরিদুল আলমের ছেলে আল-আমিন জানান, আমার কাকা অভিমানী, আমার দাদার জায়গা জমি ভাগ হয়নি এখনো, তবে চাচা কিছু জমি নিজ নামে লিখে নিয়েছে। চাচার পাওনা বুঝিয়ে দিতে আমাদের আপত্তি নাই।

১০নং গুনাইঘর ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ কুমিল্লা (উঃ) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবগত হয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানান, মজিবুর রহমানকে তার পিতার জমির কাগজপত্র নিয়ে এসিল্যান্ডের সাথে দেখা করার জন্য বলা হয়েছে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে তার পাওনা জমি তাকে উদ্ধার করে দেওয়া হবে। না হয় আবাসনের ব্যবস্থা করে দেব।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ তাৎক্ষনিক চক্ষু চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং স্বচ্ছলতা আনয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। সম্পাদনা: অনিক কর্মকার

Loading