১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৯
শিরোনাম:

সাইদুল্লাহ হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণে ফ্যাসিস্ট বাবুর ডিশ ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু । এলাকায় ডিশ বাবু নামে পরিচিত। একসময় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহোচর ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর এখন বিদেশে পালিয়ে আছেন। বাবুর ডিস ব্যবসা জমির ব্যবসা এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন সাইদুল্লাহ হৃদয় ওরফে ডিশ হৃদয়।

এই যে হৃদয় এক সময় শামীম ওসমান ও তার শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুর ঘনিষ্ঠ ছিল এবং নারায়ণগঞ্জে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নারায়ণগঞ্জ ক্লাব একক নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন খোলস পাল্টে নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও জেলা নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গতবছর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি কালাম ও জাকির খানসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে মামলা এড়িয়েছেন। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের গুলি করে হত্যার আসামি বিদেশে পালিয়ে থাকা নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর সাথে যোগাযোগ করে ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে হাতিয়ে দিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

প্রতি মাসে সাবেক কাউন্সিলর বাবুকে ২ কোটি টাকা পাঠাচ্ছেন। বাবুকে দেশে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হৃদয়। শুধু তাই নয় তিনি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টও হয়েছেন। আর তাকে এই পদে পৌঁছতে সহযোগিতা করেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ আহমেদ বাবু (আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত), যিনি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন (বিশেষ করে নারীঘটিত বিভিন্ন কেলেঙ্কারির)। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডিশ হৃদয় ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীপন্থী চক্রকে গোপনে অর্থায়ন করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ে বিপুল টাকার মালিক বনে গেছেন হৃদয়। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের নানাভাবে সহযোগিতা ছাড়াও রাজধানীতে বিভিন্ন ঝটিকা মিছিলে লোক সরবারাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকার কতিপয় বিএনপি নেতার সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

সাধারন কর্মীদের অভিযোগ, এক সময় আওয়ামী সিন্ডিকেট এই ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো। বর্তমানে বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীরা এ ব্যবসার হাল ধরার কথা। কিন্তু সুচতুর সাইদুল্লাহ হৃদয় নিজের কব্জায় রেখেছেন এ ব্যবসা। অজ্ঞাত কারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। অবলিম্বে এই আওয়ামী ফ্যাসিস্টরে দোসর সাইদুল্লাহ হৃদয় ওরফে ডিশ হৃদয়কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের।

Loading