২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০৫
শিরোনাম:

কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের লাগাম টানতে বড় বাধা আইনি জটিলতা

চট্টগ্রামের রাজপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১৫টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অন্তত দু’শ ছিন্নমূল কিশোর অপরাধী। চলন্ত রিকশা থেকে ব্যাগ ছোঁ মেরে নেয়া, বাসযাত্রীর মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যাওয়া, রাতে পথচারীদের মালামাল ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা। আইনি জটিলতার কারণে কিশোরদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কয়েক মাস আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় এক কিশোর। এভাবে পুরো নগর জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে আছে ছিন্নমূল কিশোর গ্যাংগুলো। সম্প্রতি র‍্যাব এবং পুলিশের অভিযানে ৪৪ জন আটক হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আছে ছিন্নমূল এসব কিশোর গ্যাংয়ের নানা তথ্য।

র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লে কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, ‘ফ্লাইওভারের পরে সুতা বেঁধে বা বন্দর থেকে যে গাড়িগুলো বের হয় সেগুলোকে ছিনতাই করে। বিভিন্ন লিডারের ছত্রছায়ায় এ কাজগুলো সংগঠিত করে তারা।’

নগরীর ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে রয়েছে এসব ছিন্নমূল কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইওভারগুলোয় বিশেষ কায়দায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। এরপর পুলিশের অভিযান শুরু হলে এসব গ্রুপের সদস্যরা বর্তমানে কদমতলী-বিআরটিসির মোড় হয়ে নিউ মার্কেট, আমতল, চকবাজার, লালদীঘি এলাকায় এসে অবস্থান নিয়েছে। আর প্রতিনিয়ত তাদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

সিএমপি উপ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের যে বিধিবিধানগুলো আছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর বা আদালত সবাই মিলেই আইনের সেই বিধি বিধান মেনেই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’

সিএমপি উপ কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, ‘আদালত থেকে বের করার পরেই শিশুদের সংশোধনাগারে পাঠাতে বলা হয়। আমরাও সেখানে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বেরোনোর পর আবার তারা একই পথে যায়।’

তবে বয়স কম হওয়াসহ নানা ধরনের আইনী জটিলতায় অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এসব ছিন্নমূল কিশোরদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় জটিলতা আরো বাড়ছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম সমাজ সেবা অধিদপ্তর প্রবেশন অফিসার পারুমা বেগম।

পুলিশের তথ্য মতে, অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় জামিনে মুক্ত হয়ে সহজেই পালিয়ে যায় তারা।

Loading