নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় শরিয়া নামক গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মজিবর ফকির। গ্রামে যিনি মজি ফকির হিসেবেই বেশি পরিচিত। গত ২বছর আগেও যিনি সুস্থ এবং স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু এখন তার পায়ে পড়েছে দড়ি।
খোলা কুঁড়েঘরের পাশে টয়লেট সংলগ্ন টিনের ছাউনির নিচে চকিতেই শুয়ে বসে দিন পার করতে হয় মজি ফকিরকে। তাহার সামনে দিয়ে কোন যাওয়া বা আসা কোন লোক দেখলেই মজি ফকির বলতে থাকেন, “খাবার দে হামাক খাবার দে” খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মজি ফকিরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা-যত্ন না পাওয়ায় মজি ফকির এখন অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
মজিবরের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম দাবি করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, সুচিকিৎসা, সেবা-যত্ন না পাওয়ায় এবং দড়িতে বেঁধে রাখার কারণে তিনি দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছেন তাহার স্বামী। বড় ছেলে তিনবেলা যে পরিমাণ খাবার দেয় তাতে ক্ষুধা মিটে না তাহার। এ কারণে তাহার কাছে যারাই যায় মজিবর তাদের কাছে খাবার চেয়ে বসেন”।
তিনি আরও বলেন, “বড় ছেলে বসত-বাড়িসহ বেশি সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাহার স্বামীর মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। অভাবের সংসার তাই আমাকে মেয়ে-জামাইয়ের ওপর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। তার পরও যতটুকু পারি তাকে যত্ন করার চেষ্টা করি। তবে অধিকাংশ সময় মেয়েদের বাড়িতেই থাকতে হয় আমাকে। তখন স্বামীকে দেখার আর কেউ থাকে না। নোংরা ওই কুঁড়েঘরেই তাকে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকতে হয়। ফরিদা বেগম দাবি করেন যে, তাহার স্বামীর সুচিকিৎসা, ভালো সেবা-যত্ন, পর্যাপ্ত খাবার ও মুক্ত পরিবেশ পেলে তিনি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন”।
![]()