২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:০৮
শিরোনাম:

গজারিয়ায় স্কুল পরিদর্শনের নামে চলে অর্থ বানিজ্য- অসহায় শিক্ষক সমাজ 

গজারিয়া প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা ভৌগলিক কারণে মুন্সিগঞ্জ জেলা হতে মেঘনা নদীর বিভাজনে পূর্ব প্রান্তে দ্বীপের নেয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বুক চিরে প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে গজারিয়া উপজেলা ।  যোগাযোগ, শিক্ষা, শিল্পায়নের  অগ্রগতি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শিক্ষিত জাতি  উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়  শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। গজারিয়া উপজেলায়   প্রায় ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরে বেশ কয়েকটি অলিখিত শিক্ষা উন্নয়নের পরিদর্শনের নামে জেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ ভূঁইয়া ।

এই পরিদর্শনের সার্বিক নির্দেশনায় গজারিয়া উপজেলার  শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগম। ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্যরা।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অবকাঠামোর উন্নতি একটি চলমান নির্দেশনা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও পরিবেশ রক্ষার গাছ নিলামে বিক্রয়ের নির্দেশনার নামেমাত্র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তার অফিসে বসেই মন মত কাগজপত্র তৈরি করে যথাযথ সরকারি রাজস্ব জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত পকেটে নেয়।

এই উপজেলায় ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১৮টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকা অনুযায়ী পুরাতন ভবন নিলামের মাধ্যমে অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও নিলাম ব্যতীত ভবন ভাঙার  অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১০ নং আড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে গিয়ে তা পাওয়া যায়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে তড়িঘড়ি করে নিলামের কাগজপত্র তৈরি করা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে চলে অর্থ আদায়। দেশে মহামারী করোনা সংক্রমণ থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার জেলা শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন, ICT প্রশিক্ষণ, নামে প্রতিটি বিদ্যালয়ে হতে ২/৩ হাজার টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও কতিপয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এমনকি শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার মেরামত ( ২০২০) বরাদ্দ বাবদ ৩০ হাজার টাকা মেরামত না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মমতাজ নিজ পকেট এ নিয়ে নেয়।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়নের অর্থ প্রদান (স্লিপের টাকা) প্রদানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে কতিপয় দালালের মাধ্যমে আদায় হয় ।

২০১৯/২০ সালের প্রধান শিক্ষকদের ভ্রমণ ভাতার অর্থ যথাসময়ে প্রাপ্ত শিক্ষকদের না দিয়ে আংশিক নামেমাত্র কিছু অংশ প্রদান করে নিজ ডায়েরিতে স্বাক্ষর রাখে। যাহা শিক্ষকদের বেতনের সাথে প্রদানের নিয়ম থাকলেও তা পরিশোধ করেননি।

উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা অফিসারদের নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদকাল তিন বছর থাকলেও  ২০২১ সালের জানুয়ারি ১৫ তারিখ পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অদৃশ্য যোগসূত্রে বদলি থেমে আছে।

শিক্ষক বদলি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, প্রদানে শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চলে অর্থ আদায়ের মহাউৎসব।

এ ব্যাপারে গজারিয়া উপজেলার শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগম এর নিকট জানতে চাইলে অনেক ব্যাপারেই নিরবতার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সমঝোতার জন্য প্রস্তাব দেয়।

জেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ ভূঁইয়াকে এ ব্যাপারে  প্রশ্ন করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যথাযত মতামত প্রকাশ না করে ফোন রেখে দেন ।

Loading