বিশেষ প্রতিনিধি : গণপ‚র্ত অধিদফতরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহউদ্দিন আহাম্মদ। অধিদফতরে তার পরিচিতি ‘ফিফটিন পার্সেন্ট’। অভিযোগ আছে, প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে এই হারে কমিশন নেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোসলেহউদ্দিন। তার অন্যতম সহযোগি আজিমপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদ ও এসডি রাশেদ। সেসময় নিয়মবহির্ভ‚তভাবে সরকারি টাকা খরচ করে আলোচিত হন। তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠে। সংসদীয় কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও মেলে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!তার বির”দ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। কথিত ডুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবেও পরিচিতি আছে তার। এই মোসলেহউদ্দিনকে গত ১৩ জানুয়ারি তলবি নোটিশ পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্য ব্যক্তিরা। এর মধ্য দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল মোসলেহউদ্দিনকে। সেই অনুযায়ী হাজির হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় গণপ‚র্ত অধিদফতরে ঠিকাদার-প্রকৌশলী সিন্ডিকেট, অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থপাচার ও বাড়ির মালিক হওয়া, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দেন দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন। স‚ত্র জানায়, ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের নেতা ছিলেন মোসলেহউদ্দিন। বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সেসব ছাপিয়ে তিনি এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থক।
গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির পক্ষে গত বছরের ২০ নভেম্বর সোহেল রানা ও গণপ‚র্ত অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের পক্ষে গত ৫ ডিসেম্বর মো. বদরুদ্দীন ওমর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুদক প্রধান কার্যালয়ে পৃথক অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তার ছাত্রজীবন, রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থ-সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়। প্রকৌশলী মোসলেউদ্দিনের বির”দ্ধে যত অভিযোগ : ১. অষ্টম জাতীয় সংসদে অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তে অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়াকে (ডেপুটি স্পিকার) প্রধান করে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল।
ওই কমিটি গণপ‚র্ত বিভাগের তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল। তাদের বির”দ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল ওই কমিটি। কিন্তু ওই সুপারিশ অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা নেয়নি গণপ‚র্ত অধিদফতর। তদন্ত কমিটির সুপারিশে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট আখতার হামিদ সিদ্দিকীর বির”দ্ধে মামলা হলেও তিন প্রকৌশলী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এই তিন প্রকৌশলীর একজন হলেন বর্তমানে গণপ‚র্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহউদ্দিন আহাম্মদ। ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
২. তিন দফা পদোন্নতি পাওয়ার পর মোসলেহউদ্দিনকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হতে সহায়তা করেন কথিত যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম। ৩. তিন কোটি টাকা খরচ করে গত অক্টোবরে চট্টগ্রাম গণপ‚র্ত জোন থেকে ঢাকা গণপ‚র্ত জোনে বদলি হয়ে আসেন মোসলেহউদ্দিন। ৪. গণপ‚র্ত অধিদফতরে কমিশনভোগী মোসলেহউদ্দিন ‘ফিফটিন পার্সেন্ট’ নামে পরিচিত। ৫. ঘুষ ও দুর্নীতির টাকায় দেশে বিদেশে বাড়ি করেছেন তিনি।
![]()