বর্তমানে এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে অথবা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। কিন্তু শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু করলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরো কমে যায়। মন শান্ত রাখা ও শরীর শিথিল করার অন্যতম উপায় হচ্ছে যোগব্যায়াম।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!যোগব্যায়ামে শ্বাসক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ ধ্যান ও কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যোগব্যায়াম হচ্ছে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক চর্চা যা শরীর শিথিল করার পাশাপাশি মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে। গবেষকরা বলছেন, যোগব্যায়াম ও অ্যারোবিক এক্সারসাইজের সমন্বয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যেতে পারে। যেসব কার্যক্রমে শ্বাসক্রিয়া ও হার্ট রেট বৃদ্ধি পায় সেগুলোকে অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি বলে। এই এক্সারসাইজ ‘কার্ডিও’ নামেও পরিচিত।
কিছু অ্যারোবিক এক্সারসাইজের উদাহরণ হচ্ছে দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা, দৌঁড়ানো বা জগিং, সাইকেল চালানো, দড়ি লাফ ও এলিপ্টিক্যাল মেশিনে দৌড়ানো। ভারী কিছু উত্তোলন অথবা অল্প সময়ে প্রচুর শক্তি খরচ হয় এমন শরীরচর্চা অ্যারোবিক এক্সারসাইজের অর্ন্তগত নয়। এই এক্সারসাইজে অক্সিজেনই হচ্ছে মূল শক্তি। অন্যদিকে অ্যানারোবিক এক্সারসাইজে তাৎক্ষণিক শক্তি লাগে। অ্যানারোবিক এক্সারসাইজে শরীর জ্বালানির জন্য অক্সিজেনের পরিবর্তে সঞ্চিত শক্তি উৎসের ওপর নির্ভর করে। যেমন- গ্লুকোজের ভাঙ্গন।
ভারতের এইচজি এসএমএস হসপিটালের একটি নতুন গবেষণা বলছে, হৃদরোগ দূরে রাখার কার্যকর উপায় হচ্ছে নিয়মিত যোগব্যায়াম ও অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করা। গবেষক দল ৭৫০ জন হৃদরোগীকে তিনটি ভিন্ন এক্সারসাইজ করতে বলেন: অ্যারোবিক এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম এবং অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ও যোগব্যায়াম উভয়টিই। তিনটি গ্রুপের রোগীরা ৬ মাস পর্যন্ত ব্যায়ামগুলো করেন। ট্রায়াল পিরিয়ড শেষে দেখা যায়, অ্যারোবিক ও যোগব্যায়াম চর্চাকারী উভয় গ্রুপের লোকেদের রক্তচাপ, বিএমআই ও কোলেস্টেরল প্রায় একই মাত্রায় হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু যে গ্রুপের রোগীরা উভয় এক্সারসাইজে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে দ্বিগুণ উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
যোগব্যায়ামের উপকারিতা কেবলমাত্র হার্টের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত নয়, কিছু গবেষণা সংকেত দিচ্ছে, এই আধ্যাত্মিক ব্যায়াম ব্রেইনপাওয়ার বাড়াতে পারে, পিঠ ব্যথা প্রতিরোধ করতে পারে ও বৈকালিক জড়তা কাটাতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করলে আরো বেশি উপকারিতা পেতে পারেন। প্রিভেন্টেটিভ কার্ডিওলজির স্কলার সোনাল তানোয়ার ও কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট নরেশ সেন এইচজি এসএমএস হসপিটালের গবেষণাপত্রে লিখেছেন: ‘ভারতীয় যোগব্যায়াম ও অ্যারোবিক এক্সারসাইজের সমন্বয় মানসিক, শারীরিক ও সংবহনতান্ত্রিক চাপ কমাতে পারে- এর ফলে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় ও হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে বা ৫০ শতাংশ কমে যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত লোকেরা ভারতীয় যোগব্যায়াম শিখে নিয়মিত চর্চা করলে হার্টের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।’
![]()