৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৩১
শিরোনাম:

হেফাজতের কর্মীরা মুরতাদ হয়ে গেছে, প্রকাশ্যে তওবা ছাড়া তাদের পেছনে নামাজ হবে না: ওলামা লীগ

শনিবার (৩এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সরকারের পক্ষে ১৩টি সমমাননা ইসলামি দলের আয়োজনে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে হরতাল করা হারাম। আর হারামকে হালাল মনে করে করলে বা হারাম কাজকে ইসলামী আন্দোলন বলে প্রচার করলে তারা মুরতাদ হয়ে যায়। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাই হেফাজতীরা সব মুরতাদ হয়েছে। প্রকাশ্যে তওবা না করা পর্যন্ত তাদের পেছনে নামাজ হবেনা, তারাবীহ ঈদের নামাজ কোনোটাই হবেনা। তারা মুসলমান বলে গণ্য হবে না।সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশে সরকারের উচিত হেফাজতী জামায়াতীদের প্রতি মুরতাদের শরঈ শাস্তি প্রয়োগ করা এবং অবিলম্বে হেফাজত-জামায়াত নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি সাধারণ মুসলমানদেরও উচিত তাদের বয়কট করা।

তারা বলেন,’গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অনন্য পর্যায়ে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট সুযোগ ও শক্তি রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ দাবীদার ভারতে দ্বীন ইসলামের উপর আঘাত; মুসলমানদের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত; মুসলমানদের দ্বীন পালনের উপর আঘাত; সর্বোপরি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার উপর আঘাত ইত্যাদি সব কিছুর বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে নিবৃত্ত করার জন্য তীব্র ও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

বক্তারা বলেন,’বিএনপি জামাত চাচ্ছে পুনরায় লকডাউন জারির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য। মানুষ মারার জন্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য। কারণ কেবলমাত্র সরকারি হিসেবে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি শিক্ষা খাতের ক্ষতি বাদেই প্রতিদিন ৫ হাজার কোটি টাকা হিসাবে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত হিসেবে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। তাই সরকারের উচিত হবে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে নতুন করে আর লকডাউন কার্যকর না করা। বিএনপি জামাতের পাতা ফাঁদে পা না দেয়া।করোনাতঙ্কের নামে আত্মঘাতী লকডাউন না দেয়া।

বক্তারা আরও বলেন,’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফের বাংলা অনুবাদের দলীল-আদিল্লাহর মাধ্যমেই প্রমাণিত যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে তথা সম্মানিত শরীয়তে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই। সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ বলে বিশ্বাস করা কাট্টা কুফরী ও শিরকী এর অন্তর্ভুক্ত। নামাযের মধ্যে মুখমন্ডল খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে। নামাযের মধ্যে চেহারা ঢেকে রাখলে নামায মাকরুহ হয়। আর নামাযে মাকরুহ তাহরীমি হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব। কাজেই মাস্ক পড়লে বা মুখমন্ডল ঢাকলে নামায হবে না। কাজেই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাশ হবেনা- এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় শরীয়তবিরোধী কাজ মাস্ক পড়ার নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

মানববন্ধনে নেতারা বলেন, ‘হরতাল’ মোদী-পাপাত্মা গান্ধীর মাতৃভাষা গুজরাটি শব্দ। হর’ অর্থ- প্রত্যেক। তালা’ অর্থ তালা। অর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা। হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি। হরতালের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, হাটবাজার, দোকানপাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি করা। কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দু পাপাত্মা গান্ধী সে দাবী আদায়ের পদ্ধতির নামকরণ করে হরতাল। মূলতঃ স্ট্রাইক শব্দের প্রবর্তক হলো- ইহুদী-নাছারা। আর হরতাল শব্দের প্রবর্তক হলো- মুশরিক পাপাত্মা গান্ধী। আমাদের দেশে যে হরতাল করা হয় তা শরীয়ত সম্মত নয়।

মানববন্ধনে সমন্বয় করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী।বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, কার্যকরী সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ প্রমুখ।

Loading