দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাতে। গত নয় বছরে কয়েক দফা কাজ শেষ করার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও আরও কত বছর সময় লাগবে, তা বলতে পারছেন না কেউই। বলা হচ্ছে, দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কথা। এসবের মধ্যেই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্পের কাজের মান ও নকশা নিয়ে। তাদের মতে, গাজীপুর করিডোর বিআরটির জন্য উপযুক্তই নয়। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সরেজমিনে দেখা যায়, চারটি ভাগে এগিয়ে চলছে প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সড়কের পাশের ফুটপাত, ড্রেনেজ ও বাস ডিপো নির্মাণ। এখন চলছে বিমানবন্দর থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত টানা উড়ালসড়ক, ২৫টি স্টেশন ও ভিন্ন ভিন্ন ৭টি মোড়ে ওভারপাস নির্মাণের কাজ। তবে সড়ক বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ওভারপাস ও উড়ালসড়ক বিআরটির বৈশিষ্ট্যই নয়। এ ছাড়া মাত্র দুই লেনের বিআরটি, ৪ ফুট প্রশস্তের ফুটপাত, সরু ড্রেন আর পুরো প্রকল্পের মধ্যে থাকা ৩২টি ইউটার্ন ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় জটিলতা আরও বাড়াবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, যে সড়কে বিআরটি নির্মাণ হচ্ছে সেটা বিআরটিবান্ধব সড়ক না। কেননা ওই এলাকায় প্রচুর মানুষ হেঁটে চলাচল করে, এপার-ওপার পারাপার হয়। জায়গা বাছাই করতেই সবচেয়ে বড় ভুল করেছে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটিতে প্রচুর খরচের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢাকা-গাজীপুর সড়কে যে পরিমাণ গাড়ির চাপ সেখানে এক লেনের বাস চলাচল করে কোনো সমাধান আসবে না। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক ও ইঞ্জিনিয়াররা কাজে গাফিলতি করেছে, তাই ভোগান্তি বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, সড়কের দুই পাশ দিয়ে যে পরিমাণ পানি আসবে, প্রকল্পের আওতাধীন ড্রেন থেকে সে পরিামণ পানি বের হতে পারবে না। ওভারপাস ও উড়ালসড়কে এক লেনের হবে যা যানজট কমাতে সহায়ক হবে না।এখনই প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন না করলে সরকারের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বিফলে যাবে বলেও মনে করেন তারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাটির নিচে যেটা চলে গেছে সেটা যাক। এখন যেটা আছে, সেটা সংশোধন করলে এখানে লাখ লাখ মানুষের উপকার হবে।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এটা তো বাইবেল না যে পরিবর্তন করা যাবে না। এখনই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।তবে বিআরটি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে ভাসাভাসা না বলে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিয়ে নকশার ভুল ধরিয়ে দিতে হবে। গাজীপুরে সড়কের সক্ষমতা কম বলেই সেখানে উড়ালসড়ক যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তারা।
বাস র্যাপিট ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটিড ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি আমাদের ডিজাইন ধরে ডেটা দিয়ে বলতে পারেন এখানে এখানে ভুল, তাহলে তাকে ওয়েলকাম করব। প্রয়োজনে তাকে টাকা দেব।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ এর জুনে বিআরটি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৩-এর আগে তা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খোদ প্রকল্পসংশ্লিষ্টরাই।
![]()