২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৪
শিরোনাম:

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের যে গুম করার, বিচারবহির্ভূত হত্যার মানসিকতা, মন্ত্রীর বক্তব্যে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রথম আলো

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গত জুন মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশে গুমের শিকার ৩৪ জন ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চায়। এ বিষয়ে গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের সঙ্গ কথা বলেন। তিনি জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের এভাবে তথ্য চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘দুনিয়ার কমবেশি সব দেশেই এগুলো হয়, ভারতে হয়, পাকিস্তানেও হয়। ভারতে তারা কথা বলে না, পাকিস্তানে বলে না, আমরা তাদের বেশি পাত্তা দিই বলে তারা (জাতিসংঘ) বলতেই থাকে।

এ বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এখানে তাদের গুম করার যে মানসিকতা, বিচারবহির্ভূত হত্যার মানসিকতা, তারা যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিশ্বের কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এটা হতে পারে না। ভারতে কী হচ্ছে, পাকিস্তানে কী হচ্ছে সেটা নয়, বাংলাদেশ কী হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো এভাবে গুম হয়ে যাওয়ার জন্য? একজন রাজনীতিক, এমপি, ব্যারিস্টার, ব্রিগেডিয়ার, কাউন্সিলর গুম হয়ে গেলেন, তাদের কোনো খোঁজ নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভা হয়। সভায় দলের নেতা ও সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ৩৪ জন ব্যক্তির অবস্থান জানতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওয়ার্কিং গ্রুপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়া চিঠির বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটি মনে করে, এর মাধ্যমে গুমের বিষয়ে বিএনপির দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। সরকার তাঁদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরি আঘাতকে সরকার ষড়যন্ত্র মনে করছে। তিনি বলেন, আপনাদের মনে থাকার কথা, সাভারে রানা প্লাজা যখন ভাঙলো, তখন মহিউদ্দিন খানের (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) মতো শিক্ষিত মানুষ বললেন, বিএনপি না কি ঝাঁকি দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এটা তো কমনসেন্সের ব্যাপার, এখন তীব্র স্রোত পদ্মায়। আর পদ্মা তো ছোটখাটো নদী না। পদ্মার সেই স্রোতে এ ধরনের ফেরি কিছুটা ডাইভার্ট হবেই। উচিত ছিলো এ সময়ে রুটটা সরিয়ে নেওয়া। ওদের অবশ্য সুবিধা আছে, ভেঙে ফেলে আবার নতুন করে করবে। তখন অনেক টাকা জোগাড় করতে পারবে। প্রজেক্টই তো দরকার তাদের। বাংলা নিউজ ২৪

টিকা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে না অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কোনো বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারেনি। উপরন্তু, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অন্যান্য উৎস থেকে টিকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বিনষ্ট করেছে। তিনি বলেন, টিকা নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না।অপরাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ সরকার। মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে একদিকে জনগণকে প্রতারণা করছে, অন্যদিকে জনগণকে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। ঢাকা পোস্ট

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে দুই ডোজ টিকা পেয়েছে মাত্র ৫২ লাখ মানুষ। প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ। অথচ জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। আজ পর্যন্ত সরকার টিকার সুনির্দিষ্ট কোনো রোড ম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। টিকা নিয়ে এ প্রতারণা অপরাধের শামিল। জনগণের জীবন বিপন্ন করার সব দায় এ সরকারকেই বহন করতে হবে।

 

Loading