৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩৮
শিরোনাম:

হেফাজত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী মারা গেছেন, প্রথম জানাজা হাটহাজারীতে

জুনায়েদ বাবুনগরীর খাদেম এইমএম জুনায়েদ ও তার নাতি বরকতুল্লাহ বাবুনগরী এ মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এইমএম জুনায়েদ জানান, চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রথম জানাজা হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠি হবে। পরে দ্বিতীয় জানাজা ফটিকছড়িতে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে প্রথম জানাজা নামাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নামাজের সময় পেছানো হতে পারে তিনি জানান। জুনায়েদ বাবুনগরীকে কোথায় দাফন এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

তার মৃত্যুর পর থেকে হাটহাজারী পৌর সদরে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের ঢল দেখা গেছে। হেফাজতের আমিরের মৃত্যুর সংবাদের পরপরই নেতাকর্মী ও ভক্তরা হাসপাতালে এসে ভিড় করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

জুনায়েদ বাবুনগরী স্ত্রী, পাঁচ মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। ২০২০ সালে হেফাজতের আমির হন জুনায়েদ বাবুনগরী। এর আগে তিনি এ সংগঠনের মহাসচিব পদে ছিলেন। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রামের মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে চট্টগ্রাম নগরের সিএসসিআর নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ৭৩ বছর বয়সী আল্লামা জোনায়েদ বাবুনগরী বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

এর আগে ৮ আগেস্ট চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সশরীরে উপস্থিত হয়ে গাড়িতে বসে তিনি ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ গ্রহণ করেন।

উইকিপিডিয়ায় দেওয়া তথ্য মতে, বাবুনগরী ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবুল হাসান ও মাতা ফাতেমা খাতুন। হারুন বাবুনগরী তার নানা। মায়ের দিক দিয়ে তার বংশধারা ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের সাথে মিলিত হয়। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার মামা।

৫ বছর বয়সে তিনি আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে ভর্তি হন। এখানে তিনি মক্তব, হেফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। কুরআনের হেফজ শেষ করার পর আজহারুল ইসলাম ধর্মপুরীর কাছে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ শুনিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভর্তি হন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায়। ১৯৭৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল কাইয়ুম, আহমদুল হক (মুফতি), আবুল হাসান, আব্দুল আজিজ, শাহ আহমদ শফী সহ প্রমুখ খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ।

তারপর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তান গমন করেন। ১৯৭৬ সালে করাচিতে অবস্থিত জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ায় তাখাচ্ছুছাত ফিল উলুমুল হাদিস তথা উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগে ভর্তি হন। ২ বছর হাদিস নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে তিনি আরবি ভাষায় ‘সীরাতুল ইমামিদ দারিমী ওয়াত তারিখ বি শায়খিহী’ (ইমাম দারিমী ও তার শিক্ষকগণের জীবন বৃত্তান্ত) শীর্ষক অভিসন্দর্ভ জমা দেন। এই অভিসন্দর্ভ জমা দেওয়ার পর তিনি জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করেন।

১৯৭৮ সালের শেষের দিকে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করে বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। বাংলাদেশের মাদ্রাসা সমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম বাবুনগর মাদ্রাসায় তিনি উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ চালু করেন। ২০০৩ সালে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন। ২০২০ সালের ১৭ জুন মাদ্রাসা কমিটি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়। তার স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

Loading