২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৪
শিরোনাম:

স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে ৭ জনের সাক্ষ্য শেষ

অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় দুই কার্যদিবসে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও এক নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ মামলায় আরও পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সাক্ষীরা হলেন- র‌্যাব-১ এর এসআই সাজেদুল ইসলাম ও সদস্য আনিসুর রহমান, কর্পোরাল শফিকুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও শহিদুল ইসলাম। বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে এদিন মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর পরিদর্শক (শহর ও যান) আলমগীর হোসেন এবং এসআই মো. জাকিরকে জেরা শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। মঙ্গলবার এ সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছিলেন। এরপর আদালত এদিন আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। তাদেরও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল দুই কার্যদিবসে মামলাটিতে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন। তারা এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছেন।

এর আগে চলতি বছর ১১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ -এ কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান চৌধুরী আদালতে এ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর একই আদালত চলতি বছর ১১ মার্চ এ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন।

অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় র‌্যাব অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুই মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোয় কায়েক দফা রিমান্ড শেষে ওই বছর ৯ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

রাজধানীর তুরাগে গাড়িচালক আবদুল মালেকের রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট সাত তলার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি। একই এলাকায় ১২ কাঠার প্লট। এ ছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, অধিদপ্তরের কর্মচারী হলেও মালেক ছিলেন প্রভাবশালী। তিনি অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ, বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার কথামতো কর্মকর্তারা কাজ না করায় তাদের নানাভাবে হয়রানি বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মালেক একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে ব্যবহার করতেন পাজেরো গাড়ি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব চালকরা আছেন তাদের তেল চুরির টাকার বেশিরভাগই মালেকের পকেটে যেত। রাতারাতি বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক বনে যান তিনি। এসব টাকা দিয়ে মালেক ঢাকা শহরে একাধিক আলিশান বাড়ি, ফ্ল্যাট এমনকি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা রেখেছেন।

Loading