২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৪৪
শিরোনাম:

শেখ পরশের নম্বর স্পুফ করে অর্থ আদায়

ঢাকা: আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফ করে তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ফিরোজ খন্দকার ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দিনগত রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ইন্টারনেট রেফারেল টিমের লিডার সহকারী কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে নানান তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফিরোজ খন্দকারকে সোমবার রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়। শেখ ফজলে শামস পরশের মামলায় গ্রেফতার হলেও তার নামে আরও তিনটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।

সাইবার পুলিশ জানায়, ফিরোজ খন্দকার গ্রেফতারের আগে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি ঢাকার খিলখাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন বুথ থেকে প্রতারণার টাকা তুলেন। সন্দেহ এড়াতে টাকা উত্তোলনের সময় মোটরসাইকেল চড়ে বিভিন্ন বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তুলতেন। অভিযোগ পেয়ে খিলখাঁও ও কেরানীগঞ্জের যেসব বুথ থেকে ফিরোজ খন্দকার টাকা তুলেন তার সবগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ফিরোজ যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফ করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এ কাজে ফিরোজ খন্দকার প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তিনি সেসব ফোন নম্বরে ডায়ালার অ্যাপের মাধ্যমে নম্বর স্পুফ করে ফোন করতেন।

প্রতারক ফিরোজ খন্দকার এসব ফোন কলে সরাসরি টাকা চাইতেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে তিনি পরশ পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ-রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইতেন। সংগঠনের চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে টাকা পাঠাতেন। আর তিনি সেই টাকা বিভিন্ন বুথ থেকে তুলতেন।

তবে এসব ঘটনায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস বাধ্য হয়ে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। তিনি বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেন শেখ পরশ।

পরে ১৫ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যানের হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান।

সূত্র জানায়, পরশের নাম করে তার ব্যবহৃত রবি নম্বরটি ক্লোন করে গত ৯ অক্টোবর প্রথম ফোন করা হয় গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীন হাসান লোটনের গ্রামীণ ফোনের নম্বরে। সংগঠনের জন্য চাঁদা হিসেবে তাকে একটি রকেট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একই দিন নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের চপলকে ফোন করে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

১০ অক্টোবর মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার নামে এক ব্যক্তি এবং পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিনে একই পরিচয়ে দেশের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

Loading