৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৩৭
শিরোনাম:

ঢাবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু: হত্যা মামলা দায়ের, স্বামী গ্রেপ্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। বুধবার বনানী থানার ওসি নুরে আজম মিয়া বলেন, ইলমার বাবা মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন ইলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীন (৩৬) এবং ইলমার শশুর-শাশুড়ি। এ মামলায় আটক নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ইলমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায় পুলিশ।

মৃত ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, গত ছয় মাস আগে কানাডা প্রবাসী ইফতেখারের সঙ্গে ইলমার বিয়ে হয়। পাঁচদিন আগে তার স্বামী কানাডা থেকে ঢাকায় বনানীর বাসায় আসেন। মঙ্গলবার ইলমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, ইলমার গলাসহ শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ইলমা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন ইলমাকে মেরে ফেলেছেন। আমরা এর বিচার চাই।

ইলমার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢামেক মর্গে ছুটে যান তার সহপাঠী এবং শিক্ষকরা। সহপাঠী মজিদা নাসরিন মম বলেন, বিয়ের আগ পর্যন্ত বেগম সুফিয়া কামাল হলে থাকতো ইলমা। বিয়েন পর থেকে বনানী শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। গত সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়। একটি পরীক্ষা দিতে আসছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা শুনেছি, তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না। প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন ওকে।

মজিদা নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, এমনকি ফোন দিলেও শাশুড়ি রিসিভ করতেন। আমরা ওর শরীরের আঘাতগুলোর চিহ্ন দেখেছি। ওর শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলেছেন, ও আত্মহত্যা করেছে। ইলমা কোনোভাবেই আত্মহত্যা করে নাই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক তামান্না রহমান বলেন, আমরা ইলমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা বলে মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুনেছি, ইলমা যখন গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল, তখন ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড ছিল। কতটা অবিশ্বাস এবং সন্দেহ করতো তাকে।

Loading