২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২৭
শিরোনাম:

বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা: যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাজুখান এলাকায় প্রতিবেশী এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গ্রেপ্তারকৃত নেত্রী উপজেলার মাজুখান গ্রামের সেলিম হোসেনের স্ত্রী আফরোজা আক্তার ঝুমুর (৩২)।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার মাজুখান গ্রামের আবদুল মান্নান নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে ফারুক হোসেন গত রোববার রাতে আট জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ওই মামলার আসামিরা হলেন, মাজুখান গ্রামের বাসিন্দা ও মৌচাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী উপজেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফরোজা আক্তার ওরফে ঝুমুর, সেলিমের পিতা আবদুল মজিদ, সেলিম হোসেনের ছেলে মো. অনিক, প্রতিবেশী মাসুদ মিয়া, অয়ন হোসেন, সলিমন ও রেখা বেগম।

ওইদিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে যুব মহিলা লীগের নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল আলম জানান, আফরোজা আক্তার ঝুমুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার মাজুখান এলাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার ও কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সেলিম হোসেন ও তার স্ত্রী উপজেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা আক্তার ওরফে ঝুমুরদেরও পাশাপাশি বাড়ি। তাদের দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আব্দুল মান্নান তার ছেলেদের নিয়ে শনিবার বিকেলে দুজনের সীমানার মধ্যে বেড়া দেন। এ খবর পেয়ে সেলিম হোসেন ও তার স্ত্রী আফরোজা তাদের লোকজন নিয়ে সেই বেড়া ভেঙে দিতে যান। এ সময়ে আব্দুল মান্নান ও তার দুই ছেলে বাধা সৃষ্টি করলে প্রতিপক্ষের সেলিম ও আফরোজা তাদের লোকজন নিয়ে মান্নানদের ওপর হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। এতে আব্দুল মান্নান গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রোববার ভোরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পর থেকে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন করছে।

Loading