৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩২
শিরোনাম:

নগদের নামে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ : পোস্টমাস্টারসহ বরখাস্ত ২

মোবাইল ব্যাংকিং নগদের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাবনার সাগরকান্দি সাব পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল ও পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পাবনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযুক্ত পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুলের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে এবং পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বাড়ি সদর উপজেলার দিঘী গোহাইলবাড়ী গ্রামে।

গত মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ‘নগদের নামে প্রতারণা, টাকা নিয়ে পোস্টম্যান উধাও’ শিরোনামে রাইজিংবিডিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পাবনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন বলেন, পাবনা প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক আব্দুল মোত্তালেব, পরিদর্শক শাহীন জোবায়ের ও সহকারী পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল ও পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। ফলে অভিযুক্তদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল ও পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমিনপুর থানায় মামলা করেন ভূক্তভোগী গ্রাহক উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের প্রদীপ কুমার কুন্ডুর স্ত্রী পুর্ণিমা রাণী কুন্ডু।

এর আগে একইদিন দুপুরে রাজশাহী বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল কাজী আসাদুল ইসলামসহ বিভাগীয় কর্মকর্তারা সুজানগরের সাগরকান্দি গিয়ে প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

পাবনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে প্রতারণার শিকার নতুন কোনো গ্রাহক যুক্ত হলে এ টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে। পোস্ট অফিসের সঙ্গে পল্লী কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের নগদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। পাশ বহিতে নগদের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাবনা সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের পোস্ট মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের যোগসাজসে নগদ এর নামে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩ কেটি টাকা নিয়ে উধাও হন পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল। তারা গ্রাহকদের পল্লী কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড নগদ রেজিঃ নং-সি-৫৩৬৭৭ (৩৪২) ২০০৪ এর টোকেনও দেন। নগদে টাকা রাখলে লাভ বেশি এমন লোভ দেখিয়ে তারা টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

Loading