৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩১
শিরোনাম:

‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই, বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অনাহারক্লিষ্ট দেশবাসীর প্রতি নিষ্ঠুর রসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রিজভী বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী গত পরশু বলেছেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কিছইু করার নেই। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বোঝা যায়-দেশ চালাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। ’

এ সময় প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনাদের কিছুই করার নেই তাহলে দেশ চালায় কে? দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি। মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অদৃশ্য শক্তিধরদের বক্তব্য পাওয়া যায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য দুর্নীতির পক্ষে জোরালো সাফাই ছাড়া কিছু নয়। কর্মহীনতা, অর্ধাহার, অনাহারক্লিষ্ট দেশবাসীর প্রতি এটি মন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতা।’

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘জয় বলেছেন, বিএনপি ৫ বছরের ক্ষমতাকালে দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোন দিক দিয়ে এগিয়েছে সেটির কিছুই বলেননি। আওয়ামী সরকার দেশকে যে পিছনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি। উনার বক্তব্য শুনে মনে হয়-তিনি কোন ‘আজগুবি ইন্সটিটিউট’ এ লেখাপড়া করেছেন। উদ্ভট তথ্য প্রদানের হেড মাস্টার হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন আর নিশিরাতের নির্বাচন করে গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে ইয়াহিয়া-টিক্কার মডেলের শাসকদের উপদেষ্টার মুখে এমন কথাই মানায়। ব্যাংক লুট, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারে যে সরকার দায়ী তাদের উপদেষ্টার মুখে এমন কথাই মানায়। তিনি বিএনপি আমলের দলীয়করণের কথা বলেছেন। ’

‘অথচ বর্তমানে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, বিচার বিভাগে দলীয় লোক বসিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রায় দিলে সেই বিচারককেও দেশান্তরিত হতে হয়। আওয়ামী শাসনে ‘‘ফরমায়েসি রায়’’ এখন বিচার বিভাগের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এই শতকে সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি করেছে আওয়ামী সরকার। এরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আদিম হিংস্রতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে’, যোগ করেন রিজভী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১২ বছরে দেশের মানুষকে গরীব বানিয়ে দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইসিটি উপদেষ্টা বিএনপি আমলের দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কথা বলেছেন। বিএনপির আমলে মোটা চালের দাম ছিল ১৬ থেকে ১৭ টাকা, যা বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। চিকন চালের দাম ছিল ২২ থেকে ২৪ টাকা, যা বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সোয়াবিন তেলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, বর্তমানে দাম হলো ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। গরুর গোশতের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, যা বর্তমানে ৬৫০ টাকা। মুসুর ডালের দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৫ টাকা, যা বর্তমানে ১৩০ টাকা। ব্রয়লার মুরগীর দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৫ টাকা, এখন ১৭৫ টাকা। গুঁড়ো দুধ ছিল কেজি প্রতি ২৮৫ থেকে ৩৪৫ টাকা, যা বর্তমানে ৫৯০ থেকে ৬৫০ টাকা। পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা, যা বর্তমানে ৫৫ টাকা-কয়েকদিন আগে ছিল ১৩০ টাকা। আলু কেজি প্রতি ছিল ৬ টাকা, এখন ২৫ টাকা।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, আইনের অপশাসন, গুম-খুন-বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী সরকার বাংলাদেশে ম্যান মেড ডিজেস্টার সৃষ্টি করেছে। আসলে আওয়ামী নেতাদের বক্তব্য আদতে লুট, দাঙ্গা, হত্যা, ধ্বংস আর রক্তাক্ত উন্মাদনার সমার্থক, বলেন রিজভী।

Loading