৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৪৯
শিরোনাম:

খাটিয়ায় মোরসালিনের লাশ, ছেলের প্রশ্ন, ‘বাবা কই’

নিউমার্কেটে সংঘর্ষে নিহত মোরসালিনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গ থেকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর তার বাসায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে মরদেহ নেওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনসহ আশপাশের লোকজনের মধ্যে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

চারদিক থেকে শোনা যাচ্ছিল বুকফাটা আর্তনাদ। নিহত মোরসালিনের চার বছরের শিশু সন্তান আমির হামজা মার কোলে বসে এদিক-সেদিক তাকিয়ে তার মাকে বলে, মা বাবা কই, বাবা আইছে।
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে মোরসালিনের মরদেহ কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুরের বাসায় নেওয়া হলে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বাসার ভেতরে দেখা যায়, নিহত মোরসালিনের স্ত্রী অনি আখতার মিতুকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না আত্মীয়-স্বজনরা। তার আর্তনাদ দেখে স্বজনদেরও চোখ মুছতে দেখা যায়। তখন মিতুর কোলে ছিল তাদের চার বছরের শিশু সন্তান আমির হামজা। সে তখন তার মার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে, মা বাবা কই, বাবা আইছে। তখন তার বাবার মরদেহ ছিল খাটিয়ায়।

লক্ষ্য করা যায়, অবুজ নিষ্পাপ শিশু আমির হামজার দুটি চোখ যেন তার বাবাকে এদিক-সেদিক খুঁজে বেড়াচ্ছে। শিশুর মুখে বাবা আইছে এ কথাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে হাউমাউ করে সবাই কান্না করতে থাকে। তার মা মিতু শিশু সন্তানের মুখে বাবা আইছে কথা শুনে বলতে থাকে ওরে আমার বাবা তুমি কী কইলা, তোমার বাবা তো আছেই তবে লাশ হয়ে।

এদিকে নিহত মোরসালিনের আরেক শিশু সন্তান হুমাইয়া ইসলাম লামহা বাবা বাবা বলে কান্না করতে থাকে।

দোকানকর্মচারী মোরসালিন নিউমার্কেটের দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন ভবনের আইসিইউতে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মারা যান।

নিহত মোরসালিনের হুমাইয়া ইসলাম লামহা (৭) ও আমির হামজা (৪) নামে দু’টি সন্তান রয়েছে। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কালাই নগর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত মো. মানিক মিয়া।

অনি আখতার মিতু জানান, নিউমার্কেটে একটি শার্টের দোকানে মাসে নয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন তার স্বামী। সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলতো। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকালে নিউমার্কেটে কর্মস্থলের উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে একই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নাহিদ হাসান (১৮) নামে এক যুবকের। গত মঙ্গলবার ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে আইসিইউতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। মধ্যরাত পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। একই সূত্র ধরে পরের দিন মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

Loading