নিখোঁজের ১২ বছর পর এক যুবককে উদ্ধার করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জুয়া খেলে মাত্র ১০০ টাকা হেরে নিজের মোবাইল ফোন খুইইয়ে পরিবারের ভয়ে আর বাসায় ফেরেননি ১৭ বছরের কিশোর সুমন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ১৭ বছরের কিশোর সুমন। পথে জুয়াড়িদের পাল্লায় পরে হারেন ১০০ টাকা। কিন্তু তার সাথে টাকা না থাকায় নিজের উপার্জনে কেনা মোবাইল ফোন দিয়ে দিতে হয় সেই জুয়াড়িদের।
ভয়ে আর ক্ষোভে বাসায় ফেরার সাহস পাননি সেই কিশোর। নিখোঁজের পর পল্লবী থানায় প্রথমে জিডি তারপর অপহরণ মামলা করেন তার বাবা।
এই এক যুগে করেছেন বিয়ে, হয়েছেন সন্তানের জনক। পিবিআইয়ের তদন্তে ১২ বছর পর পরিবার ফিরে পেল তাদের সন্তানকে।
পিবিআইর তদারকিতে ২৩ মে ভিকটিমকে উদ্ধার সংক্রান্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ায় পুলিশ পরিদর্শক মোহাম তরিকুল ইসলাম আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করেন।
আদালতের নির্দেশে পুনরায় মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম সুমনকে ২৩ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার কদমতলী থানাধীন মদিনাবাগ এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়।
ভিকটিম সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, তিনি শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুরে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি ডায়মন্ড প্যাকেজিংয়ে হেলপার হিসাবে কাজ করেন। ঘটনার দিন মিরপুর-১১ সুন্দর বাজার এলাকার চার রাস্তার মোড়ে ৩ তাসের জুয়া খেলায় ১০০ টাকা ধরে হেরে যান। তার কাছে টাকা না থাকায় জোর করে মোবাইল ফোন জুয়াড়িরা রেখে দেয়। পরদিন সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদে শুয়ে থাকেন।
সেখান থেকে এক লোক তাকে শাহবাগ ফুল মার্কেটে নিয়ে নাস্তা খাওয়ান। পরবর্তীতে টিপু নামে এক লোক তাকে শাহবাগ এলাকার একটি হোটেলে শুধু থাকা ও খাওয়ার শর্তে কাজ দেন। ওই হোটেলের বাবুর্চি হারুনের সাথে তার বন্ধুত্ব হয় এবং তার সাথে সুমন ভোলার লালমোহন উপজেলার মঙ্গল শিকদার এলাকায় একাধিকবার যান।
এরপর শাহবাগ এলাকায় বিভিন্ন চটপটির দোকানে কাজ, পপকর্ন বিক্রি, বাসের হেলপার, রুমা অ্যাকুরিয়াম সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। এরই মধ্যে নানু ওস্তাদ নামে এক ড্রাইভারের সাথে তার পরিচয় হয়। তার সঙ্গে হেলপারি করেন। ইউলফ টেকনিক্যাল স্কুল ও বারডেম হাসপাতালের যাত্রী আনা নেয়া করতেন।
পরে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন সুমন। তার স্ত্রী জোৎস্না সুমনের বাবার সাথে মোবাইলে কথা বলেন। সেই সূত্র ধরেই ভিকটিমকে উদ্ধার করে পিবিআই। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ভিকটিম সুমন তার স্ত্রী জোসনার সাথে রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
![]()