৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫২
শিরোনাম:

নতুন প্রজন্মর জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: পদ্মার ওপারে একটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় চাই

অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ : প্রতি বছরই বাজেট হয় আর কথার ফুলঝুরি ঝরে। কিন্তু যে শোষণের বিরুদ্ধে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সংগ্রাম করেছিলেন সেই সংগ্রামের যেন শেষ নেই। সকলের চাহিদা সুষমভাবে পূরণের জন্য বাজেট পৃথিবীর কোথায় হয় না বোধহয়। কারণ আজ যারা সরকারের কাল যদি থাকেন বিরোধী দলে সব কিছুই তাদের কাছে অশুদ্ধ মনে হয়। পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর কে করেছিলেন সেটা নিয়ে চলছে বিতর্ক। জিয়া ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণার পাঠক। তিনি এখন নাকি স্বাধীনতার ঘোষক ! তেমনি যেখানে জাতির পিতার কন্যার হাতে নির্মিত হলো পদ্মা সেতু, সেখানেও বিতর্ক কে কখন পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন!

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আর সেই বিতর্কে হয়তো হারিয়ে যাবে আমাদের বাজেট ভাবনা। আজ সারা বিশ্বে এক হাহাকার। অর্থনীতি চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এক সময় আমরা একটি গান শুনতাম “রিকশা ওয়ালা বলে তুমি আজ ঘৃণা আজ কারে করো।“ এখন বোধহয় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা সবচে নিচের পর্যায়ে। তারা প্রতি দুমাস পর পর ভাড়া বাড়ায়। এখন রিকশায় উঠলেই ৩০ টাকা। কিন্তু সেই ভাড়ার টাকা একজন চাকরি করা মানুষ কোথা থেকে দেবেন সেটা নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। বড়ো বাজেট হচ্ছে এবার। ইতিমধ্যে জিনিস পত্রের দাম আকাশ চুম্বি। কিন্ত বেতন বাড়ার কোন সম্ভাবনা এই বাজেট এ নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ভোগের প্রবণতার লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন। আমি মনে করি সেটা একটি সুন্দর উপদেশ। আর তাই যাবার সময় রিকশায় গেলেও হেঁটেই আমি বাসায় ফিরেছি। কারণ রিকশাওয়ালা ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা চেয়েছিলো। এবং সে সব সময় জিনিসপত্রের দাম এবং যানজটের দোহাই দিয়ে থাকে। কিন্তু কখনই স্বীকার করেনা কিভাবে সে নিয়ম না মেনে রিকশা চালায় এবং শহরের যানজট সৃষ্টি করে।

আজকাল উবার চালকেরা চালাকি করেন। ওনারা নগদ চান। এবং সেজন্য ক্যানসেল করে দেন যাত্রীর কাছে আবদার করে। উবার কতৃপক্ষ নাকি দেরিতে টাকা দেয়। ক্যাশ হলে সুবিধা ! ট্যাক্স ফাঁকিও দেয়া যায় ! তাদের বাজেট নিয়ে বক্তব্য আছে। যে পরিমান ট্যাক্স তাদের দিতে হয় একটা গাড়ি রাস্তায় নামাতে তা খুবই অসহনীয়। তাই বলে এই বাজেট এ ট্যাক্স কমাতে বলছিনা। বরং , কিভাবে শহরের গাড়ির সংখ্যা কমানো যায় সেই বাজেট আমরা চাইতে পারি। কিন্তু সেখানে হয়তো উল্টোটা হবে। গাড়ি বাড়বে আর সেটাকে সামাল দিতে উড়াল সড়ক বানানো হবে।

এভাবে অনেক কিছু যুগ যুগ ধরে হচ্ছে বলেই বঙ্গবন্ধু যে শোষণ মুক্ত বাজেট চেয়েছিলেন তা আজও হয়নি। আজ একটি পদ্মা সেতু হয়েছে। হয়তো আরেকটি পদ্মা সেতু হবে আরিচাতে। সেজন্য এবারকার বাজেট এ কিছু বরাদ্দও থাকবে। এখানে আমরা কি একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারি না ? আমরা কি ভাবে গ্রাম কিংবা উপশহর বা জেলা শহর থেকে ঢাকায় আসার প্রবণতাকে অবদমন করে সেরকম বাজেট করতে পারি না ?

আমাদের অর্থনীতিবিদরা দাবি করেন শিক্ষা স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি করবার জন্য। কিন্তু যে বাজেট বরাদ্দ পেয়েও সঠিকভাবে খরচ করতে পারেনা তাকে বেশি বরাদ্দ দিলেই কি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?
আমি হেঁটেই তো আমার গন্তব্যে যেতে পারি। সেজন্য প্রয়োজন নিরাপদ ফুট পথ। সেজন্য প্ৰয়োজন সড়কে শৃঙ্খলা , সেজন্য প্রয়োজন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়ন করে প্রাইভেট কার কমানো। কিন্তু দেখা যাবে বাজেট আছে অন্তত লক্ষাধিক গাড়ি কেনা এবং সেই গাড়ির তেল খরচ বাবদ জ্বালানি বাজেট।

আমরা কি পারিনা একটি স্কুল বাস সিস্টেম চালু করবার বাজেট বরাদ্দ দিতে। যাতে করে প্রাইভেট কার ব্যবহার কমে এবং জ্বালানি খরচ কমে। আমরা পারি, কিন্তু করবোনা। সেটা করে বিপ্লবীরা। আমরাতো বিপ্লবী না।
আমরা বিদ্যমান বিদ্যালয় গুলোতে একটি পাঠাগার নির্মাণের বাজেট করতে পারি। সেটা করলে যে ভালো হবে, উন্নতি হবে সেটা আমাদের মনে থাকে না। আমরা শ্রম দেব আর বিদেশ থেকে কিনে আনবো নীতিতে চলি। তাই বাজেট এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকে না। সেখানে থাকে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আজ দক্ষিণবঙ্গের ভাগ্য উন্নয়নে পদ্মা সেতু বানিয়ে দিয়েছেন। ঢাকায় আছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নে আমরা এমন একটি বাজেট চাই যেখানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বার স্বপ্ন থাকবে। আমরা চাই বাংলাদেশে আরেকটি কেমব্রিজ বা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পদ্মার ওপারে হবে যাতে মানুষ ঢাকা মুখী কম হয়। যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে দেশকে সমৃদ্ধ করবার জন্য। আজ পদ্মা সেতু যেমন উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে সেইভাবে পদ্মার ওপারে একটি কেমব্রিজ বা হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় যদি করা যায় তবে আমাদের মেধা পাচার হবে না, আমাদের নাগরিকরা স্বাস্থ্য সেবা নিতে বিদেশ যাবে না, এবং উন্নয়নের নবদিগন্ত উন্মোচিত হবে। বরং , আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়বার পথকে সুগম করবে বাজেট হবে সুষম। হে স্নেহময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি একটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বানিয়ে দিবেন যাতে আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে না হয় ?

যদি আমি খুঁজি জাতির পিতাকে তবে তিনিতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যদি আমি বঙ্গমাতাকে খুঁজি তবে তিনিতো আমাদের শহীদ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। আর যদি আমি নতুন প্রজন্মর কথা বলি তবে তাদের জননী শেখ হাসিনা। নতুন প্রজন্মের জননীর কাছে আমার আবেদন এই বাজেট হোক আরেকটি ক্যামব্রিজ বা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বানাবার প্রতিজ্ঞা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষা হোক বাজেট এর কেন্দ্র বিন্দু।

অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ
দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Loading