২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:০৩
শিরোনাম:

বরগুনায় চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে সড়কেই সন্তান প্রসব

বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে চিকিৎসকের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত সড়কেই সন্তান প্রসব করেছেন রিমা বেগম (১৯) নামে এক প্রসূতি। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বরগুনা পৌরশহরের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রিমা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার মো. ইব্রাহীম মিয়ার স্ত্রী। তার স্বামী ইব্রাহীম পেশায় একজন রিকশাচালক। এ ঘটনায় নবজাতক আশঙ্কামুক্ত হলেও প্রসূতির অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন রিমা। সেখানে সন্ধ্যার পর তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। ১১টার দিকে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক-নার্সরা তাকে পৌরসভার বটতলা এলাকার আলরাজি প্রাইভেট ক্লিনিকে রেফার করে। তাৎক্ষণিক রিমাকে সেখানে নিয়ে যায় স্বজনরা। তবে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় রিমাকে আরেকটি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেই ক্লিনিকেও চিকিৎসক ছিলেন না।

পরে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবু হানিফ দোলন সহযোগিতায় আরেকটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন রিমা।আবু হানিফ দোলন বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলরাজি ক্লিনিকের সামনে দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। এ সময় ক্লিনিকের ভেতর দুই নারীর আহাজারি দেখে তাদের কাছে গেলে বিষয়টি জানতে পারি। আমি ওই প্রসূতিকে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। দুর্ভাগ্যবশত সেখানেও চিকিৎসক ছিল না। পরে ডক্টরস কেয়ার নামে আরেকটি ক্লিনিকে ফোন করে জানতে পারি, সেখানে চিকিৎসক আছেন। সেই ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই নারী সন্তান প্রসব করেন।’

রিমার শাশুড়ি বলেন, ‘রিমা প্রসব বেদনায় ছটফট করছিল। এমন সময় সদর হাসপাতাল থেকে জানায়, ওর অবস্থা গুরুতর, হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে না। তাই রিমাকে নিয়ে আলরাজি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে ডাক্তার ছিল না। আমরা অসহায়ের মতো ছটফট করতে থাকি। একদিকে আমরা গরিব, অপরদিকে রিমার অবস্থা খুবই খারাপ। শেফা ক্লিনিকে গিয়েও ডাক্তার পাইনি। পরে অন্য একটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাস্তায় সন্তানের জন্ম হয়।’

শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল আলম লিমা বলেন, ‘আমি ডিউটি শেষে বাসায় গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনের সড়কে এক নারী সন্তান প্রসব করেছেন। তাকে উদ্ধার করে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই আমি ছুটে এসে ওই নারীকে দেখি। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর ছিল। রিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছি। তবে নবজাতক সুস্থ আছে।’

এদিকে কী কারণে রিমাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ক্লিনিকে পাঠানো হলো তা জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘রাতে আমি হাসপাতালে ছিলাম না। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার স্বজনরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা না বলে নার্সের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে চলে যান।’

এ সময় রাতে দায়িত্বে থাকা ডা. সামছুদ্দোহার ফোন নম্বর চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘তিনি (সামছুদ্দোহা)নাইট ডিউটি করেছেন। এখন ফোন দেওয়া ঠিক হবে না। তার নম্বর আমার কাছে নেই।’

Loading