২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৫৬
শিরোনাম:

ইভিএম নিয়ে ‘ভিন্ন’ সিদ্ধান্ত, সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব যৌক্তিক

জুলাই মাসে দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দশটি মতামত আমলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। সংলাপে অংশ নেওয়া ২৮টি দল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে ইসি। সব দলের ভোটে অংশগ্রহণ, নির্বাচনকালীন সরকার, ইভিএম, সেনা মোতায়েনসহ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবনা পেয়েছিল কমিশন, তা পর্যালোচনা করে দশ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছে কমিশন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সোমবার (২২ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ নিবন্ধিত ২৮টি দল, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ শীর্ষ কর্মকর্তা-সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ভোটে অংশগ্রহণ, ইভিএম, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনকালীন সরকার- অন্যতম এ ৪টি বিষয়ে ইসির অবস্থানের মধ্যে রয়েছে; দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চাইলেও যেকোনও দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে ইসি বাধ্য করতে পারে না। এ ছাড়া সে ধরনের কোনও প্রয়াস নেবে না ইসি।

প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল হতে পারে। এ কারণে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবটি যৌক্তিক মনে করে ইসি।

ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে নিয়ে দলগুলোয় আপত্তি ও সমর্থন দুই রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে এখনও স্থির কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইসি। রাজনৈতিক দল ছাড়াও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার বিশ্লেষণ করে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ইসি ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় মনে করে ইসি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ে ইসির অধীনে ন্যস্ত করতে সংবিধানের আলোকে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচনকে অবাধ-নিরপেক্ষ করতে সংবিধান ও আইনে দেওয়া ক্ষমতা সততা, সাহসিকতার সঙ্গে প্রয়োগ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন ইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল স্বাক্ষরিত ‘ইসির সঙ্গে নিবন্ধিত দলগুলোর সংলাপ থেকে প্রাপ্ত মতামত ও পরামর্শ এবং কমিশনের পর্যালোচনা ও মতামত’ শীর্ষক এ সারসংক্ষেপ বলা হয়েছে- মতামতগুলো কমিশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছে। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চা প্রয়োজন নির্বাচন কমিনও অভিন্ন প্রত্যাশা পোষণ করে। এ অভিন্ন প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নে ইসি, সরকার, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দলসহ সবার ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এ সারসংক্ষেপের বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ইসির নির্দেশনায় সংলাপে অংশ নেওয়া ৩৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে অংশ নেওয়া ২৮টি দলকে তা পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছেও ইসির পর্যালোচনা ও মতামত পাঠানো হয়েছে।

১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ সংলাপে ২৮টি দল অংশ নেয়। দুটি দলকে সেপ্টেম্বরের সংলাপে অংশ নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। ৯টি দল সংলাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে।

Loading