২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:০২
শিরোনাম:

সরকার নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে স্বাভাবিক নির্বাচন চায় না: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, ভালো নেই দেশের মানুষ। অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাহীন কষ্টে আছে সাধারণ মানুষ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো উচিৎ। আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে যে সব পণ্যের দাম বেড়েছে সেগুলো যেনো কমানো হয় সেজন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার বিকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, মহামারি করোনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের বেতন কমানো হয়েছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার কারনে সাধারণ মানুষ হিমশিম অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে অনেক দেশই সাধারণ মানুষের জন্য কল্যানমুখী অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করে মানুষের সেবা করেছে। মানুষের কষ্ট দূর করতে অনেকভাবেই সাহায্য করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার। কিন্তু এমন বাস্তবতায় মানুষের কল্যাণে আমাদের সরকারের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনা।

তিনি বলেন, বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ দেয়া হয় তাও দুর্নীতির কারনে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেনা। মানুষ বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন হলে মেগা প্রকল্প বন্ধ রাখা উচিৎ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল এখন এক করে ফেলা হয়েছে।। দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমরা সরকারের সমালোচনা করবো, এটা আমাদের কর্তব্য। তাই সরকারের সমালোচনা করলে, রাষ্ট্রবিরোধী মনে করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বিরোধী মামলা দেওয়া হয়।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ইভিএম হচ্ছে শান্তিপূর্ণ কারচুপির মেশিন।তিনি বলেন, সরকার নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে স্বাভাবিক নির্বাচন চায় না। সরকার ও তাদের কিছু মিত্র ছাড়া আর সকল দলই নির্বাচনে ইভিএম চায় না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করেই ইভিএম-এ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, সকল দল চাইলে ব্যালট-এ নির্বাচন হবে। আসলে নির্বাচন কমিশনের বলা উচিৎ ছিলো সবাই চাইলে ইভিএম-এ নির্বাচন করা হবে। কারণ, ব্যালট পেপারে নির্বাচন বিদ্যমান এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করবে এ বিষয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, উদ্যেশ্য ভালো না হলে কোন কিছুই ভালো হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে।

চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য না হলে সংঘাত আরো বাড়বে। কারন, আগামী নির্বাচন হবে অস্তিত্বের লড়াই। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন একটি জায়গায় নেয়া হয়েছে, সবাই প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করছে। সবাই মনে করছে পরাজিত হলে তাকে হত্যা করা হবে, যে পরাজিত হবে সে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আসলে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমরা চাই না। আমরা চাই সবাই যার যার রাজনীতি করবে। আবার সবার সঙ্গে সবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। দেশ ও মানুষের কল্যানে সবাই এক সাথে কাজ করবে। আমরা চাই, সরকার সবাইকে ডেকে অথবা গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, অসহিষ্ণু রাজনীতি কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

জাতীয় মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট পরিষদের আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন বাবু’র সভাতিত্বে, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিয়াংকা সকুল-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ শফি, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এম রাজ্জাক খান, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, হাফিজ মাস্টার, মঞ্জুরুল হক, যুগ্ম দফতর সম্পাদক সমরেশ মন্ডল মানিক, সদস্য কাজী মামুন, বজলুর রহক বজলু, রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া, পার্টির নেতা ব্যারিস্টার ফাহিম ফয়সাল খান, উজ্জ্বল চাকমা, আব্দুর রহিম রুম্মন।

Loading