৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৪
শিরোনাম:

বড় ভাইদের আশ্বাসে ক্যাম্পাসে ফিরলেন ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা

আমরণ অনশনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকঘণ্টা পরই নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রীরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনশনের জন্য ঢোকেন বহিষ্কৃত ১২ নেত্রী। এ সময় গেটে গার্ডরা বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর দুপুর দেড়টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তারা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিঙ্কৃত সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমরা বিষয়গুলো বড় ভাইদের জানাতে এসেছিলাম। জানিয়ে এখন চলে যাচ্ছি। সমস্যা সমাধানে তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা কোনো অনশনে নেই। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। তারা ক্যাম্পাসে ফিরেছেন।

এর আগে বেলা ১১টায় ইডেন কলেজ গেটে সংবাদ সম্মেলনে ১৬ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা। তা না হলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করার হুমকি দেন।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিঙ্কৃত সহ-সভাপতি সুস্মিতা বাড়ৈই বলেন, তদন্ত ছাড়া এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ভিত্তিহীন বহিষ্কারাদেশ যদি প্রত্যাহার এবং এর সুষ্ঠু বিচার না করা হয় তাহলে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করব।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে আমাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ও হাজার হাজার প্রমাণ আছে। তাদের চাঁদাবাজির ভিডিও, ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে নিয়ে কটূক্তিসহ বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের কেন বহিষ্কার করা হলো না? কোন তদন্তের ভিত্তিতে আমাদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো?

এর আগে রোববার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

সেইসঙ্গে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা উর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি, সাদিয়া জাহান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা, সূচনা আক্তারকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো।

সিট বাণিজ্য ও চাদাঁবাজি নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় শনিবার রাতে বহিঙ্কৃত সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর করে ইডেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারিরা। ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে গত দুই দিন উত্তপ্ত ছিল ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস।

Loading