পর্দা উঠেছে ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবলের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চমক দেখিয়েছে স্বাগতিক দেশ কাতার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান। তবে তাকে ছাপিয়ে গেছেন আরেক বিস্ময়বালক। তিনিও অনুষ্ঠানের কিছু অংশ সঞ্চালনা করেছেন। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলওয়াতের পাশাপাশি সাম্যের বাণী শুনিয়ে সবচেয়ে বেশি নজড় কেড়েছেন। তিনি কাতারের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক ঘানিম আল মুফতাহ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঘানিম আল মুফতাহ জন্ম থেকেই কডাল রিগ্রেশন সিন্ড্রমে আক্রান্ত। বিশ্বে প্রায় ৬০ হাজার শিশুর মধ্যে একজনের মধ্যে দেখা যায় এই বিরল রোগ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরের নিচে অর্ধেক অংশ থাকে না। ফলে অর্ধেক শরীর নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় তাদের। নানা প্রতিকুলতা পেছনে ফেলে ঘানিম কাজ করছেন মানবতার কল্যাণে। তিনি কাতারের অগণিত মানুষের রোল মডেল। মরুর বুকে রয়েছে তার অসংখ্য অনুসারী। মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। হাজারো মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তুচ্ছ করে নিরলস পরিশ্রম করছেন তিনি।
ঘানিম আল মুফতাহর আরেকটি পরিচয় তিনি উদ্যোক্তা। এ ছাড়াও পৃথিবীখ্যাত গারিসা আইসক্রিমের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় একশ কর্মী। ঘানিমের প্রিয় খেলা ফুটবল, হাইকিং, স্কুবা ডাইভিং এবং সাঁতার। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঘানিম দুই হাতে বুট জুতা পরে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন। যদিও তার এই পথচলা সহজ ছিল না মোটেও।
মায়ের গর্ভে থাকাকালে আলট্রাস্নো করার সময় দেখা যায় ঘানিম অন্য শিশুদের চেয়ে অস্বাভাবিক। এই অবস্থায় অনেকেই সন্তান নষ্টের পরামর্শ দেন। কিন্তু ঘানিমের মা ইমান-উল-আবদেলি এবং বাবা মুহাম্মদ-আল-মুফতাহ্ সন্তান জন্মদানের সিদ্ধান্ত নেন। ঘানিমের মা স্বামীকে বলেন, আমি হবো সন্তানের বাম পা আর তুমি হবে তার ডান পা। আমরা দুজনে সন্তানকে কখনো নিম্নাংশের অভাব বুঝতে দেবো না। এরপর ২০০২ সালের ৫ মে জন্মগ্রহণ করেন ঘানিম। জন্মের পর অনেক চিকিৎসক বলেছেন ১৫ বছরের বেশি বাঁচবেন না তিনি। কিন্তু সব ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা করে দিয়েছেন ঘানিম।
ঘানিমের অদম্য ইচ্ছেশক্তি তাকে পর্বত জয় করতেও সহায়তা করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল শামস আরোহণ করেছেন তিনি। তিনি স্বপ্ন দেখছেন সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘানিমের অসংখ্য অনুসারী রয়েছে। ইউটিউবে নিজের কর্মকাণ্ড জানিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন ঘানিম। কাতারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে চান তিনি। তার স্বপ্ন- রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে সামলাবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসন।
![]()