২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০১
শিরোনাম:

বরগুনা বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের ‘মিনি অফিস’

বরগুনার বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতোই চেয়ার টেবিল নিয়ে নিয়মিত অফিস করেন দালাল চক্র। খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটলেও কিছুই জানেন না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া পাওয়া যায় না ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা। তবে, সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিজস্ব কোনো অফিস না থাকায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলছে জেলার বিআরটিএ’র কার্যক্রম। আর এই অফিসে চেয়ার টেবিলে বসে নিয়মিত কাজের তদারকি করেন দালালরা।সময় টেলিভিশনের ক্যামেরা দেখে চেয়ার টেবিলে ছেড়ে পর্যায়ক্রমে সটকে পড়তে শুরু করেন দালাল চক্রের সদস্যরা। সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়া দালালদের টাকা দিলেই পাওয়া যায় ড্রাইভিং লাইসেন্স। এছাড়া, বেশিরভাগ সময়েই গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান তারা।

সরকারি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা। আর এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান বিআরটিএ’র বরগুনা ও পটুয়াখালীর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক।

বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমার এডি স্যারকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি এর সমাধান দিতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে শুধু বলেছে এরা এখানে কাজ করুক। এর বেশি কিছু জানি না।’

তবে এ বিষয়ে বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিআরটিএ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. আ. জলিল মিয়া বলেন, ‘সরকারি অফিসে কোনো বেসরকারি লোক বসারই কোনো সুযোগ নেই। তবে, এরপরও যদি কেউ বসে থাকে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’

এদিকে, বিআরটিএ অফিস দালালমুক্ত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি অফিসে নির্ধারিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাইরে কারোর থাকার সুযোগ নেই। যদি বিআরটিএ অফিসে এ ধরনের দালাল চক্র থেকে থাকে, তাহলে অতি দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’ বরগুনা জেলায় ২০১৭ সাল থেকে বিআরটিএর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিন সেবা নেন তিন শতাধিক গ্রাহক।

 

Loading