২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০১
শিরোনাম:

হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে সারাদেশ(ভিডিও)

চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে মানুষ। শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন সকালে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রকিবুল হাসান বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকা পুরো কুয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে। বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। প্রচণ্ড কুয়াশার চাপ থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। বৃহস্পতিবার থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তবে সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এদিকে হিমালয়ের পাদদেশ হওয়ায় প্রতিবছর ঠাকুরগাঁয়ে শীতের প্রকোপ অন্য অনেক জেলার চেয়ে বেশী। এ বছর গত তিনদিন ধরে হিমেল হাওয়ার শৈত্য প্রবাহ চলছে এ অঞ্চলে। দূর্ভোগে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীতের কারণে কাজের পরিমান অনেক কমে গেছে। সরকারের সহায়তা কামনা করছে তারা। আবার কেউ কেউ শীত উপেক্ষা করে কাজে গেছেন পেটের দায়ে। ঠান্ডা জনিত কারণে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ছে নিমুনিয়া, ডাইরিয়াসহ শর্দী-কাশি রোগির সংখ্যা। শীতের তীব্রতায় মানুষে সাথে নাকাল গোবাদী পশুও। তাদের শীত নিবারনে যেন ব্যাস্ত হয়ে পরেছে চাষীরা। খরকুটো জ্বালীয়ে শীত নিবারন করছে অনেকে। অনেক যানবাহন হেডলাইট জ্বালীয়ে চলাচল করছে রাস্তায়। জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন বলে জানিয়েছেন ।

উত্তরদিক থেকে আসা হিমালয়ের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় মৃদ্যু শৈতপ্রবাহে পঞ্চগড়ে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। শুক্রবার রাত থেকে কুয়াশার পরিমাণ কম থাকলেও রাতভর তীব্র ঠান্ডা বাতাসে নাকাল এ জেলার মানুষ। শনিবার সকালে থেকে ঘনকুয়াশার চাদরে ছেয়ে গেছে মাঠঘাট প্রানত্মর। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘনকুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। রাসত্মাঘাটে লোকজন চলাচল কম। যানবাহনও চলাচল কমে গেছে। কুয়াশা বৃষ্টি মত পড়ছে। রাসত্মাঘাট ভিজে গেছে। শীতের তীব্রতায় মানুষও খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে কুয়াশায় ঢেকে যায় পথঘাট। দিনের বেলা মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। শনিবার সকাল ৯ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়ায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

শীতে ভোগান্তিতে পরেছে কুড়িগ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীত, উত্তরীয় হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে জেলার সব শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ বেশি বিপাকে পরেছে। ঠান্ডা আর শীতের কারণে সকাল সকাল কাজে যেতে পারছে না তারা। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে তারা। কনকনে ঠান্ডার ফলে শীতজনিত রোগে ভুগছে শিশু ও বয়ষ্করা।

গাইবান্ধায় কুয়াশার দাফট কিছুটা কমলেও কমেনি শীতের দাফট। দুপুরের পর মিলছে সূর্যের দেখা। আর বিকেলের পর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পরছে রাসত্মা-ঘাট। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে রয়েছে প্রচন্ড শীতের পকোপ। শীতে কৃষক ও শ্রমজীবিরা পরেছে চরম বিপাকে। এদিকে শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গন, পিকেবি রোড, ডিবি রোড, ষ্টেশন রোড, পৌর সভার আশে পাশে ও পুরাতন জজকোর্ট এলাকায় পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভালো কেনা বেচা হচ্ছে। শহরের চৌধুরী মার্কেট সংলগ্ন রাসত্মার দু’পাশে গরম কাপড়ের দোকান রয়েছে ৪০টি’র মতো। ফুটপাতেও দোকান রয়েছে ১০ থেকে ১৫টি।

পৌঁষের হাড় কাঁপানো শীতে কাপছে চুয়াডাঙ্গা। আজ শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এ জেলায়। মৃদু শৈত্য প্রবাহে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ভোর থেকে বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। শীতে কষ্টে আছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। সময় মতো কাজে যেতে পারছেন না তারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারন করতে দেখা গেছে এসব মানুষগুলোকে। তীব্র ঠাণ্ডায় দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। শীতে নষ্ট হচ্ছে মাঠের ফসল। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ধানের বীজতলা।

তীব্র শীতে বিপর্যস- হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের মানুষ। কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর হিম শীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শৈত প্রবাহে বিপাকে জেলার দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। কনকনে ঠান্ডা মোকাবেলায় দূর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। গরম কাপড় দরিদ্র কিছু পরিবার পেলেও তা এই শীত মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় । তাই কষ্টের শেষ নেই এই পরিবারগুলোর । সরকার আর বিত্তবানদের দিকে গরম কাপড় সহায়তা চায় তারা। হাঁড়কাপানো ঠান্ডায় দিনমজুরদের হাতে কাজ নেই। শৈত প্রবাহের কারনে গরম কাপড় আর খাবার সংকটে তাদের কষ্ট বেড়েছে। এদিকে আজ শনিবার সকাল ৬ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

বরিশালে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শীতে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কার্যক্রম। ঘন কুয়াশার জন্য নদী পথে জান চলাচলে সমস্যায় পরতে হচ্ছে চালকদের। কায়াশার কারনে লঞ্চ মাঝ নদীতে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে চালকরা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বরিশালে গত এক সপ্তাহের মধ্যে আজ সর্ব নিম্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্র ছিল ২১.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঘন্টায় ৬কিলো হারে ছিল বাতাসের গতিবেগ। এ দিকে শীত জনিত রোগ বালাই বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়ো:বৃদ্ধরা নানা ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসপাতালে। শিশু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার ৫ গুন ভর্তি রয়েছে রোগী। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছে শিগগিরই চালু হচ্ছে এই ওয়ার্ডের জন্য আরও ১শ বেড। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ৩৬ বেডের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৫৪ জন। যা ধারণ ক্ষমতার ৫ গুন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেঝেতে জায়গা না থাকায় একটি বেডে চার জন শিশুকেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। আর যারা ভর্তি রয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত।

Loading