বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি কি মুনাফা আদায় করতে চাইছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছি। ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছি, ধানের শীষকে সামনে নিয়ে আসছি। আমরা একটা পরিবেশ তৈরি করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছি। আমাদের জনগণ বেরিয়ে আসছে এটা আমাদের সবচেয়ে বড় মুনাফা।
তিনি বলেন, যখন রাষ্ট্রের অন্য কোনো গণতান্ত্রিক সুবিধা নেই। যখন, গণতান্ত্রিক জায়গা গুলো ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। সেই সময়ে আমরা জনগণের সামনে গিয়েছি,গণতন্ত্রের কথা বলেছি এটুকুই আমাদের অর্জন।
গতকাল ঢাবিতে ছাত্রলীগের অনুষ্টানে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন,সকাল থেকেই কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিষয়টি আপনারা কিভাবে নিয়েছেন? জবাবে, বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলেছি তারা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন করার জন্য। আমরা সেটা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বলছি। সর্বোপরি জনগণকে আহবান জানিয়ে পতিহত করতে।
নির্বাচনের দিন জনগণকে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে বলছেন, আপনারা যারা ভোটার রয়েছেন, আপনারা কি ভোটেরদিন ভোট কেন্দ্রে যাবেন ভোট দিতে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই যাবেন। তাদের যে দায়িত্ব রয়েছে তারা সে দায়িত্বও পালন করবেন।
অপর এক প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করছি এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য।আমরা নিশ্চিত যদি জনগণ ভোট দিতে পারে, অবশ্যই আমরা জয় লাভ করবো।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা ও সরকারের নির্দেশে কাজ করার কারণে এই নির্বাচনও দলীয়করণ করা হয়েছে-যা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। হাজারো বিধি লংঘনের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন।
ঢাকা মহানগীর দুই সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদ্বয় ক্রমাগত নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে, রঙিন পোষ্টার, বিরোধী দলের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা, ফুটপাথের ওপর নির্বাচনী অফিস নির্মাণ, পুলিশ কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীদের বেআইনীভাবে গ্রেফতার এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উস্কানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচনের পরিবেশকে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিকে নিয়ে গেছে।
উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ওপর শারীরিক আক্রমণ, গুলিবর্ষণ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ, আহত করা এবং পরে মিথ্যা মামলায় বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশের তল্লসী এবং গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পুনরায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
মহল্লায়-মহল্লায় দলের সন্ত্রাসী দিয়ে মহড়া, হুমকি প্রদর্শন করে বিরোধী দলের কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। হুমকি দিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সর্বোপরী সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে।
তিনি বলেন, পুলিশও একই ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি’র অনেক সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা চিকিৎসার জন্য অথবা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন তাদেরকে বেআইনীভাবে গ্রেফতার করে পূর্বের ন্যায় একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে। ঢাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশ তল্লাসী শুরু করেছে।
![]()