২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৩৪
শিরোনাম:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের শিক্ষার্থীরা করোনার ঝুঁকিতে

কুবি প্রতিনিধি, কৌশিক আহমেদ  : বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া অন্যতম আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ছড়াতে শুরু করেছে করোনা। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। করোনা একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ, ছোঁয়া বা হাঁচি-কাশিতে ভাইরাস ছড়াতে পারে। কিন্তু এই মরণব্যাধির ঝুঁকি নিয়েও গাদাগাদি করে গণরুমে থাকতে বাধ্য হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুম ২০৫ এ ৪২ জন, ৩০৫ এ ১৯ জন, ১০৮ এ ১২ জন এবং ১০২ ও ১০৩ এ ১০ জন। কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০৬ নং রুমে ২০ জন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ১০০৪ নং রুমে ১২ জন, নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ১০৭ নং রুমে ১২ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। যেখানে অধিকাংশ রুমের ফ্যান, লাইট বিকল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া প্রতি তলায় ৮০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ওয়াশরুম মাত্র ৬টি। ফলে করোনার মতো মরণব্যাধি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে সহজে।
করোনা প্রতিরোধ করতে ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেমিনার স্থগিত করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  সর্তকতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, বুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম থেকে ছাত্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল জনসমাগম বন্ধ করাসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের সর্তকতামূলক বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ মুহূর্তে করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত থাকা। কিন্তু হলের আশপাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে নেই প্রশাসনের তেমন কোনও উদ্যোগ।
গণরুমের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যেখানে চার জনের রুম সেখানে থাকতে হয় ৩০-৪০ জন। রাতে অধিকাংশ সময় ঘুমাতে পারেন না তারা। ঘুমাতে গেলে একজনের নিঃশ্বাস আরেকজনের মুখে লেগে যায়। যেটি খুবই অস্বস্তিকর।
করোনা আতঙ্কে এক শিক্ষার্থী বলেন, এরকম অপরিষ্কার, অপরিচচ্ছন্ন রুমে গাদাগাদি করে থাকলে আমাদের মধ্যে সহজে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। যা খুবই দুঃখজনক।
গণরুমে করোনা যেকোনও সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ডা: মাহামুদুল হাসান খান বলেন, ‘গণরুম করোনাভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম সোর্স। এখানে অনেকজন একসাথে থাকে ফলে হাঁচি-কাশি থেকে করোনা ছড়াতে পারে। জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো: জিয়া উদ্দিন এক রুমে ৪০ জন থাকলেও গণরুম নয় দাবি করে বলেন, করোনা নতুন একটি ভাইরাস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা আলাদাভাবে কোনও উদ্যেগ নিতে পারছি না।
করোনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় কোনও প্রকারের ব্যবস্থা নিবে কিনা জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে সেমিনারের আয়োজন করবো। এখন গণরুমের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। নিজেদেরকে সচেতন থাকতে হবে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের সিন্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

Loading

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!