৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২২
শিরোনাম:

করোনায় মৃতদের দাফনে অংশ নেয়া যাবে, জানাযায় যাওয়ার পর এখনো কেউ আক্রান্ত হননি

মৃত্যুর পর কেউ থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দাফন, জানাজা আর কবরে মাটি দিতেও স্বজনরা থাকবে না এমনটা বা ক’জন ভাবতে পেরেছেন। তবে যারা করোনায় মৃতদের দাফন করছেন তারা কিন্তু আক্রান্ত হচ্ছেন না।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

করোনায় মৃত্যু হয়নি এমন দেশ হাতে গোনা কয়েকটি। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বহু দেশ এখন বিপর্যস্ত করোনার ভয়াল থাবায়। দুই লাখ মানুষের জীবন কেরে নিয়েছে এই করোনা। তবে বিশে^র হিসেবে বাংলাদেশে এই সংখ্যা কম। কিন্তু কম হলেও মৃতদের দাফন নিয়ে চলছে মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক।

করোনায় মৃতদের শেষযাত্রায় থাকছে না আত্মীয় স্বজনরা। তবে পাশে আছে ইসলামী সংগঠনের কর্মীরা।দাফনের দায়িত্ব নিয়েছেন তারাই। এতে কেউ এখনো আক্রান্ত হয়নি। দাফন ও জানাজার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আল রহমতে আলম সমাজসেবা সংস্থার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, একটা মানুষ মারা যাবে তার জানাজা হবে না এটা আমরা মানতে পারি না। এই কার্যক্রমে আমরা জানাজার ব্যবস্থা করছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে কিছু নিয়ম কানুন মেনে স্বজনরাও করোনায় মৃতের দাফন-কাফনে অংশ নিতে পারবেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে, মরদেহ কীভাবে দাফন আর সৎকার করা হবে তার একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটির পরামর্শ, মরদেহের শরীরের কোনো ছিদ্র থেকে যেন তরল পদার্থ বের না হয় সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। প্রথা অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের জন্য প্রস্তুত হলে, স্বজনরা দেখতে পারবেন। তবে স্পর্শ করা যাবে না। যারা শেষ বিদায়ের কাজে থাকবেন, তারা গ্লাভস, গাউন ব্যবহার করবেন।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, জানাজায় অংশ নেয়া ফরজে কেফায়া, তাই শেষযাত্রায় পরিবারের কেউ কাছে না থাকা দুঃখজনক। অহেতুক ভয় না পেয়ে নিয়ম মেনে শেষযাত্রায় পরিবারকে কাছে থাকার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মৃত মানুষকে বিদায় দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটা সমাজের কেউ না করলে সবাইকে গুনাহের ভাগিদার হতে হবে। তাই নিয়ম মেনে দাফন ও জানাজার ব্যবস্থা করতেই হবে। ভয় পেলে চলবে না।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলোমগীর বলেন, যিনি আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার কাছের সবাইতো কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। তারা যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের থেকে আবার অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া যারা দাফন ও জানাজার দায়িত্ব নিয়েছেন তারা সব কিছুই নিয়ম অনুযায়ী করে দেয়।

এএসএম আলোমগীর বলেন, চাইলে পরিপূর্ণ পিপিই পরে যাওয়া যায়। কিন্তু যেহেতু জন সমাগম নিষিদ্ধ তাই আমরা যেতে বলছি না। তবে দুই একজনতো থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে মরদেহ থেকে ৩ বা ৬ ফুট দূরে দাঁড়াতে হবে। সম্পাদনা : রাশিদ

Loading