২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৪০
শিরোনাম:

কয়রায় ঘূর্নিঝড় আম্পানে বিধ্বস্থ ও লবণ পানিতে ক্ষতিগ্রস্থশতভাগ কাঁচাঘর বাড়ী

হুমায়ন কবির মিরাজ, সাতক্ষীরা: ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্থ ও বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে ভেসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়রায় শতভাগ কাঁচা ঘর বাড়ী। যে কারনে আম্পানের ২৬ দিন পরেও ঘরে ফিরতে পারেনি সহস্যাধিক পরিবার এবং তারা তারা আজও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রেও অবস্থান করছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ঘূর্নিঝড় আম্পানে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে কাঁচাঘর বাড়ী ৭৪৭৬ টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ এবং ৮৭১২ টি আংশিক উল্লেখ করা হলেও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা শতভাগ। উল্লেখ্য ঘূর্ণিঝড় আম্পানে কয়রা সদর, মহারাজপুর, উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে ১৩ টি স্থানেওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৩২ টি গ্রাম লবণ পানিতে ভেসে যায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অথচ এসব গ্রামে শতভাগ কাাঁচা ঘর বাড়ী বিধ্বস্থ হলেও উপজেলা প্রশাসনের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় ৬৮৪৮ টি ঘর উল্লেখ করা হয়। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ২৬ দিন অতিবাহিত হলেও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হাজত খালী ও গাজীপাড়া বেঁড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সেখানে জোয়ারভাটা
অব্যহত আছে। অন্য দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নে দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ আম্পানের ২৪ দিন পর এবং কয়রা সদর ইউনিয়নে ঘাটাখালি ২১ দিন পর রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হয়েছে। ফলে অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর বাড়ী আজও ধসে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয় মহারাজপুর, কয়রা সদর ও উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির ও সরদার নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৩ দিনের মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা চাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে সঠিক তালিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, আম্পান পরবর্তী বেঁড়িবাঁধ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রতিদিন জোয়ার ভাটার কারনে নতুন নতুন ঘরবাড়ী ভেসে গেছে। সেজন্য বাঁধ নির্মাণ হলেই তারা সঠিক তালিকা তৈরি করবেন।

তবে আম্পানে কয়রায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীঘর সহ বেঁড়িবাঁধ নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আকতারুজ্জামান বাবুর সাথে কথা বললে, তিনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্নিঝড় আম্পান বেশি আঘাত করেছে এমনটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় অবগত আছেন। তিনি বলেন, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানিতে ভেসে এবং সমগ্র দুটি উপজেলায় শতভাগ কাঁচা ঘর বাড়ীসহ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও মাছের ঘেরের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। সে জন্য তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয় সর্বক্ষণ যোগাযোগ করেছেন এবং তিনি আশা করেন সরকারের মাধ্যমে ক্ষতি গ্রস্থ ঘরবাড়ী নির্মাণ সহ বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করবেন।

Loading