২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫৪
শিরোনাম:

যশোরের চৌগাছায় এসআই হাসানুজ্জামান কেশবপুরে গাঁজাসহ আটক হলেন

হুমায়ন কবির মিরাজ, যশোর: যশোরের কেশবপুরে গাঁজাসহ চৌগাছা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। গাঁজা বিক্রি করতে গিয়ে তারা আটক হন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও আটক কর্মকর্তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনা ঘটে গত সোমবার দুপুরে কেশবপুর উপজেলার চাঁদড়া নবাবপাড়ায়। মঙ্গলবার আটককৃতদের আদালতে সোপর্দের পর ঘটনা জানাজানি হয়। আটক পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাসানুজ্জামানের বিপি নম্বর হলো ৮৪০৪০১৯২০৫। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়ার উপজেলার সিংঙ্গা এলাকার মৃত মোফাজ্জেল সরকারের ছেলে। তার সাথে আটক হয়েনেছ কেশবপুরের চাঁদড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ওহিদুজ্জামান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এসআই হাসানুজ্জামানকে আটকের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এসআই হাসানুজ্জামানকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে লেখালেখি না করার জন্য অনুরোধ জানান। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আটক আসামি হাসানুজ্জামানের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া একই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অপর আসামি নাজমুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন। তবে কেশবপুর থানা পুলিশের ওসি জসিম উদ্দিন এসআই হাসানুজামানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও তাকে আটকের কথা স্বীকার করেননি। অপরদিকে চৌগাছা থানা পুলিশের ওসি রিফাত খান রাজিব এ বিষয়ে কেশবপুর থানার কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন। তবে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিপ্লব মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, ‘এসআই হাসানুজ্জামান কোন কাজে গতকাল (সোমবার) যশোর গিয়েছেন।’ আজ (মঙ্গলবার) তিনি থানায় আছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘না নেই।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুর সোয়া দুটোর দিকে কেশবপুরের ভালুকঘর ক্যাম্পের এসআই দিবাকর মালাকর, এএসআই শফিকুল ইসলাম ও এএসআই রিপন কুমার হালদার ক্রেতা সেজে উপজেলার চাঁদড়া পালপাড়া মোড়স্থ নুর মোহাম্মদের দোকানের সামনে ওৎ পেতে থাকেন। এ সময় দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে (ঢাকা মেট্রো-ল- ৩২-৭৭২২ ও যশোর-ল-১৩-০৫২৮) তিন ব্যক্তি সেখানে আসেন। একটি মোটরসাইকেলে দুজন এবং অপর মোটরসাইকেলে একজন ছিলেন। তারা এসেই গাঁজার ক্রেতা খোঁজ করতে থাকেন। সাথে সাথে ভালুকঘর ক্যাম্পের পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। পুলিশ এ সময় নাজমুল ইসলাম নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করে। তবে কৌশলে পালিয়ে যান শহিদ (২৮) নামে অপর একজন। এ অবস্থায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর ব্যক্তি নিজেকে চৌগাছা থানা পুলিশের এসআই হাসানুজ্জামান বলে পরিচয় দেন। তিনি এ সময় ভালুকঘর ক্যাম্পের এসআই দিবাকর মালাকরকে তাকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ করেন। এরই এক পর্যায়ে তিনি তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ মোটরসাইকেলের ওপর রেখে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যান।

ভালুকঘর ক্যাম্পের পুলিশ ধাওয়া করেও ওই সময় তাকে আটক করতে পারেনি। পরে পুলিশ এসআই হাসানুজ্জামানের রেখে যাওয়া ব্যাগ থেকে ২ কেজি গাঁজা ও পুলিশের পোশাক উদ্ধার করে। এছাড়া অপর একটি মোটরসাইকেল থেকে আরও এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে এসআই হাসানুজ্জামানকে পুলিশ আটক করে। তবে তাকে কখন, কীভাবে আটক করা হয়েছে সেই বিষয়ে পুলিশের কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করেননি। সূত্র আরও জানায়, ওই ঘটনায় এসআই দিবাকর মালাকর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩ জনকে আসামি করে গত সোমবার কেশবপুর থানায় একটি মামলা (নং-১০) করেন। আসামিরা হচ্ছে নাজমুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন, মনিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা দক্ষিণপাড়ার মশিয়ার রহমান মশির ছেলে শহিদ এবং চৌগাছা থানা পুলিশের এসআই হাসানুজ্জামান।

Loading