২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:০৮

৭১-এ বগুড়ার কিছু অংশ

অনিক চৌধুরী  : ১৬ডিসেম্বর! বাংলার বিজয় দিবস। ৩০ লক্ষ দেশ প্রেমিকের আত্মত্যাগের এক পরিণাম এই ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তখন রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত) লাখো উচ্ছ্বসিত বাঙালির সামনে বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবুল্লাহ খান নিয়াজী।

বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলাদেশ। যাতে থাকবে না কোন খাঁদ(হানাদার বাহিনী)। ১৬ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার এই স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেলো বাঙালির । মাতৃভূমি মুক্ত হয়ে গেছে । দিনটি নিয়ে যতই বলা যাবে ততোই কম হবে।

পূর্ব-পাকিস্থানের প্রতিটি কোণায় লড়াই হয়ে ছিল মা’কে বাঁচানোর জন্য । বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান বগুড়া জেলার ।রাজশাহী বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বগুড়া। উত্তর বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চল । মুক্তিযুদ্ধে এই অঞ্চলের এক বিশেষত্ব আছে তা হচ্ছে “ শুধুমাত্র এইখানেই নির্মিত এলাকাতে লড়াই করা হয়েছিল”১৫ ডিসেম্বর সকাল প্রথম আলোর মাধ্যমে বগুড়াকে পশ্চিম থেকে বিচ্ছিন্ন করার এবং শেষ আলোর মাধ্যমে শত্রুপ্রতিরোধ পরিষ্কার করার আদেশ দেওয়া হয়। এখানে আছে স্বাধীনতা যুদ্ধের চিহ্ন গণকবর পাঁচটি, গণহত্যাস্থল একটি।
গণকবর পাঁচটি হলোঃ
• তালোরে ধুপচানচিয়া রোডের কাছে পদ্মপুকুর
• শাহজাহানপুরের বিবির পুকুর
• নন্দীগ্রাম থানার বামন গ্রাম
• ধুনাত থানার কাছে সোনাটালার হরিকান্দি
গণহত্যাস্থলটি হলোঃ
• শেরপুর উপজেলার বাগরা কলোনিতে

স্বাধীনতা যুদ্ধের চিহ্ন গণকবর ৫ (তালোরে ধুপচানচিয়া রোডের কাছে পদ্মপুকুর, শাহজাহানপুরের বিবির পুকুর, নন্দীগ্রাম থানার বামন গ্রাম, ধুনাত থানার কাছে সোনাটালার হরিকান্দি); গণহত্যাস্থল ১ (শেরপুর উপজেলার বাগরা কলোনিতে), স্মৃতিস্তম্ভ ৩ (কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর, আদমদিঘী শশংহাট (শ্মশান কেন্দ্র), ধুনাত শহীদ স্মৃতিসৌধ)

বগুড়া কে মুক্ত করার জন্য ১০-১৩ডিসেম্বর চলে অভিযান। অবশেষে ১৩ডিসেম্বর মুক্ত হয় বগুড়া হানাদার বাহিনীর হাত থেকে। পরাজিত হানাদার বাহিনীকে বৃন্দাবন পাড়ায় ২-৩ দিন কাঁটা তারে আটকে রেখেছিল ।শহরের এ্যাডওয়ার্ড পার্কে(জেলা পৌর পার্কে) হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তখন বগুড়া জেলার মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের আহবায়ক ছিলেন “মুক্তিযোদ্ধা মাসুদার রহমান হেলাল” তিনিই নিশ্চিত করেছিলেন বগুড়ার মুক্তির সংবাদ ।

বগুড়া জেলার ফুলবাড়িতে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের স্মরণে ২০০৫ সালে “মুক্তির ফুলবাড়ী” নামে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বগুড়ার প্রাণ কেন্দ্র সাত মাথায় স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ পদক প্রাপ্ত সাত বীরের ছবি সংবলিত “বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার”