২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৩২
শিরোনাম:

‘গণতন্ত্রের লড়াইয়ে হয় হারবো, নয় জিতবো, তবে লড়ে যাবো’, বললেন হংকংয়ের বিক্ষোভকারী

হংকংয়ে ১৩তম সপ্তাহের মতো শনিবারের বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান নিক্ষেপের সময় নীল রং ব্যবহার করে পুলিশ, যাতে পরে সহজে বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করা যায়। অন্যদিকে হংকংয়ের প্রধান কার্যালয় ও পুলিশ সদরদপ্তরের সামনে পাল্টা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। সিএনএন, বিবিসি

শনিবার চীনের অগণতান্ত্রিক নীতির প্রতিবাদে হংকংয়ে জড়ো হন হাজারো গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী। পাঁচ বছর আগে এই দিনে চীনের সরকার বলেছিলো, হংকংয়ে কোন উন্মুক্ত নির্বাচন হবে না। এর একদিন আগে শুক্রবার গণতন্ত্রপন্থী ৩ জন আইনপ্রণেতা ও ১ জন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার দুপুরের পর থেকেই ওয়ান চাইয়ের রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। হংকংয়ে চীনের প্রধান কার্যালয় ও দেশটির লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সামনে জড়ো হয়ে তারা ‘ফাইট ফর হংকং’, ‘স্ট্যান্ড উইথ হংকং’, ‘ফাইট ফর ফ্রিডম’ স্লোগান দেন। এর আগে বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ের নির্বাহী প্রধান ক্যারি ল্যামের বাসভবনের দিকে মার্চ করেন। পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবনের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। শহরের হেনসি রোডে ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।বিকেল থেকেই অনুমতি ব্যতিত সমাবেশ করায় বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হতে থাকে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা যদি থেমে যাই, আমাদের জন্য শুধু শাস্তিই অপেক্ষা করবে।’ ২২ বছরের এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাকে বিক্ষোভ করতে না বলা নিঃশ্বাস নিতে না বলার সমান। গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে হয়তো আমরা জিতবো, নয়তো হারবো, কিন্তু লড়ে যাবো।’

জুনের শুরুতে চীনে অপরাধী প্রত্যাপর্ণ আইনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে হংকংয়ের নির্বাহী ক্যারি ল্যাম এই বিলটি ‘অচল’ বলে ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভ রুপ নেয় বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। বিক্ষোভকারীরা এই বিল পুরোপুলি বাতিল, বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করা তুলে নেয়া, আটককৃত সব বিক্ষোভকারীদের মুক্তি, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের স্বাধীন তদন্ত এবং হংকংয়ের পার্লামেন্ট ‘লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’ ও প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের ভোটাধিকার দাবী করছেন।

সাবেক ব্রিটিশ কলোনি হংকং ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এটি ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। যার মেয়াদ ২০৪৭ সালে শেষ হবে। এরপর হংকংয়ের মর্যাদা কি হবে তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু হংকংয়ের নাগরিকরা চীনা শহরের অধিবাসী হতে চান না। বেইজিং ক্রমাগত এই বিক্ষোভকে সন্ত্রাসবাদের সমতুল্য বলে আসছে।