১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১৬

সম্রাটকে হত্যা করতে জিসান ও খালেদ ৫টি একে-২২ রাইফেল এনেছিলো

রাজধানীর ৩০টি ক্যাসিনো ও ঠিকাদারি থেকে মাসে ৫০ কোটি টাকা চাঁদা পেতেন যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট। এই টাকার একটা বড়ো অংশ পেতো বিদেশে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এদের মধ্যে দুবাইয়ে আত্মগোপন করা জিসান ও রনি এবং ভারতে আত্মগোপন করা শাহাদত ও আশিকের নাম ছিলো তালিকায় শীর্ষে।

জানা গেছে, জিসান ধীরে ধীরে টাকার ভাগ বাড়ানোর জন্য সম্রাটকে চাপ দেয়। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে জিসানের সঙ্গে সম্রাট ও খালেদের বৈঠক হয়। সেখানে জিসান সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। সম্রাট জানান, তিনি এখন রাজধানীর ডন। তিনি কাউকে চাঁদা দিতে পারবেন না। এমনকি মাসের ১০ লাখ টাকা চাঁদা পাঠানোও বন্ধ করে দেন সম্রাট।

দাবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় জিসান হাত মেলায় খালেদের সঙ্গে। গত এপ্রিলে দুবাইয়ে জিসান-খালেদ বৈঠক হয়। সেখানেই স¤্রাটকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বান্দরবান থেকে খালেদ ৫ টি একে-২২ রাইফেল ঢাকায় নিয়ে আসে। এদের মধ্যে গত ৩০ জুন সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা ও খিলগাঁও থেকে ২টি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার ৪ জনের কাছ থেকে ডিবি জানতে পারে যে, চাঁদাবাজির আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য জিসান-খালেদের নির্দেশে তারা এসব একে-২২ রাইফেল ঢাকায় এনেছিলো।

কিন্তু হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়, সম্রাট জেনে যান সব। এরপর থেকে সম্রাট ও খালিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। সম্রাট তার চলাফেরায় অনেকটা গোপনীয়তা নিয়ে আসেন। তাকে বহন করা গাড়ির আগে ও পিছে অন্তত ৬ টি গাড়িতে ক্যাডার বাহিনী নিয়োজিত করেন। এসব ক্যাডার বাহিনীর কাছে অন্তত ২০/২৫ টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো বলে খালেদ গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। এমনকি সম্রাট বিশ্বস্ত কেউ না হলে, তার সঙ্গে সাক্ষাতও বন্ধ করে দেন। প্রতিনিয়ত সড়ক পরিবর্তন করে সম্রাটের গাড়ির বহর যেতো।