১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:১৬
শিরোনাম:

আবরার হত্যার বিচার ও ক্যাম্পাসে দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে রাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত

সানজানা শ্রুতি, রাবি প্রতিনিধি  : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ ও ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া নিহত আবরারের স্মরণে শোক র‌্যালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
ক্যাম্পাস ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১২টায়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশ্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাদা কাপড়ে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের সময় তারা কাপড়ের উপর আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপ-উপাচার্য অপসারণ চাই বলে উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাল কার্ড হাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। এসময় দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের অভ্যন্তরে একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যা এটাই প্রথম নয়, আগেও শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য বারবার এসব ঘটনা ঘটছে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ থেকে শিক্ষক নিয়োগে তার অনিয়মের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে আমাদের শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারি না।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মানববন্ধন করে। এসময় বক্তরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে অবাধ দলীয়করণের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির প্রবেশ ঘটিয়েছে। সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ শুধু দুর্নীতির সঙ্গে নয়, সন্ত্রাসেও লিপ্ত। আবরার হত্যার মাধ্যমে শুধু আবরারকে নয়, পুরো জাতিসত্ত্বাকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে অন্য দেশকে তুষ্ট করতে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেন। আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই জায়গায় ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকসমাজ’র ব্যানারে মৌন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিয়ে র‌্যালি বের করা হয়। এ সময় তারা আবরার হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে নিহত আবরার স্মরণে শোক র‌্যালি বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় টেন্টে এসে শেষ হয়। র‌্যালি থেকে নেতাকর্মীরা আবরার হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। র‌্যালিতে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।