১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৪৮
শিরোনাম:

৩২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনে মামলা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র জব্দ ও বিভিন্ন দেশে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র‌্যাব বাদী হয়ে পৃথক মামলা দু’টি দায়ের করে।

র‌্যাব-১’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় মানি লন্ডারিং আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণেশ গোপাল বিশ্বাস জানান, হাবিবুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা (নং-৩১) দায়ের করেছে র‌্যাব।

এর আগে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বান্ধবীর বাসা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি সীমান্ত এলাকা হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে মোহাম্মদপুরে তার বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় তার বাসা থেকে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক, এক কোটি টাকার এফডিআর উদ্ধার করা হয়।

সূত্র বলছে, সম্প্রতি রাজধানীতে চলমান শুদ্ধি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের নামও ছিল। ওই তালিকার সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। তদন্তে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগের সত্যতা মেলে। এরপর তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। তবে র‌্যাবের বিষয়টি টের পেয়ে যান তিনি। তাই গত মঙ্গলবার আত্মগোপনে চলে যান মিজান। তবে তাকে আটক করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সব বিভাগ নজরদারি করতে থাকে।

র‌্যাবের একজন সদস্য বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ টাকা তুলেছিলেন কাউন্সিলর মিজান। তবে তাকে আটকের সময় দুই লাখ টাকা পাওয়া যায়। বাকি টাকা কোথায় রেখেছে সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি।

র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের হাজারের অধিক দোকান থেকে তার নামে মাসিক চাঁদা তোলা হতো। যে টাকার পরিমাণ মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো। এ সব টাকা ছিল তার অন্যতম আয়ের উৎস।