১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৫০
শিরোনাম:

আইন লঙ্ঘন করে বিক্রি হচ্ছে গুড়ো দুধ, দুই ফার্মেসী তে জরিমানা

খাঁন ইফতেহার আলী ( খুলনা) : খুলনা নগরীর দোকান গুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য । ফার্মেসি থেকে শুরু করে কনফেকশনারী  ও বেকারী দোকান গুলোতে হাত বাড়ালেই মিলছে নিষিদ্ধ এই সকল কৌটাজাত গুড়োদুধ । আইনে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কোন পণ্যের নেই জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত রেজিষ্ট্রেশন। এছাড়াও আইনে উল্লেখ আছে ঔষধ বিক্রয় কেন্দ্রে এই সকল পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ । কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টির অভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য ও এর ব্যবহার সংক্রান্ত আইন । খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্¦াস্থ্য) ডা ঃ রাশেদা সুলতানা এর নির্দেশনায় এবং জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা ঃ খলীলুর রহমানের সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার (১৭ ই অক্টোবর ২০১৯) নগরীর ১০ টির ও বেশী ঔষধ বিক্রয় কেন্দ্রে শিশু খাদ্যের উপর অভিযান চালিয়েছেন জেলাপ্রশাসন ।

এসময় ঔষধ বিক্রয় কেন্দ্রে এই সকল পণ্য বিক্রির অপরাধে দুই ফার্মেসি কর্তৃপক্ষকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদন্ড দিয়েছেন তারা । জরিমানা দেওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো লাজ ফার্মা এবং চয়নিকা ফার্মেসি ( লাজ ফার্মা- ১০,০০০  এবং চয়নিকা ফার্মেসি ২০,০০০ টাকা। স্বাস্থ্য বিভাগ, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ,থানা পুলিশ, বাংলাদেশ বেষ্টফিডিং ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো ঃ মিজানুর রহমান । এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেখ মেহেদী হাসান বুলবুল, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা এবং মোঃ মঈন উদ্দীন, ইন্সপেক্টর, বিএসটিআই, খুলনা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেষ্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডিভিশন) খাদিজাতুল কুবরা। মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য,বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি ( বিপণন – নিয়ন্ত্রণ) আইন,২০১৩ অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদিত কৌটাজাত দুধ ও তা ব্যাবহারের সরঞ্জামাদি যেমন ঃ ফিডার,নিপল ইত্যাদি প্রকাশ্যে বিক্রি এবং প্রদর্শন আইনত দন্ডনীয় । এমনকি কোন চিকিৎসক অকারণে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প ঐ সকল শিশু খাদ্য রোগী বা তার স¦জনদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লিখতে পারবে না । যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে লেখার অনুমতি থাকলেও ব্যবস্থাপত্রে এর কারণ অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে ।

এটি শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রাইভেট চেম্বারে একই আইন প্রয়োগ করতে হবে এর বাইরে ষ্টেশনারী দোকানে গুড়া দুধ বিক্রির সুযোগ থাকলেও তা জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ছাড়া বিক্রি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং সেই সাথে প্রদর্শণ না করে বিক্রি করতে হবে। আইনে এমনটি থাকলেও বাস্তব চিত্র পুরোই ভিন্ন । আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ছাড়াই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য  এবং নগরীর বিভিন্ন ঔষধ ও অন্যান্য দোকান গুলোতে চলছে পণ্যের প্রদর্শন ।

উপরোক্ত বিষয় এর উপর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডিভিশন) খাদিজাতুল কুবরা বলেন-  আইন বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে । তারই অংশ হিসেবে খুলনা নগরীর বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়েছে । শুরু হওয়া এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে  খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্¦াস্থ্য) ডা ঃ রাশেদা সুলতানা জানিয়েছেন ।

খাঁন ইফতেহার আলী

01914764344