১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৫২

জিনের বাদশা পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন প্রতারক ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন

নিউজ ডেস্ক: কথিত জিনের বাদশা পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন প্রতারক সারাদেশের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কখনো ধর্মের ভয় দেখিয়ে, আবার কখনো পিতলের মূর্তিকে গুপ্তধন বলে তারা এই টাকা নিচ্ছে। আর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাকা আদায়ে সহযোগিতা করছে অন্তত ২৫ জন এজেন্ট। সূত্র: সময় টিভি

ছোট একটি পিতলের মূর্তি। দাম বড় জোর এক হাজার টাকা। আর এটিকে মূল্যবান গুপ্তধন হিসাবে দেখিয়ে প্রতারক চক্র ইতোমধ্যে এক মহিলার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৫ লাখ টাকার বেশি। মূলত মধ্যরাতে জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে শুরু হয় প্রতারক চক্রের কারসাজি। এরপর নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে তারা।

ভুক্তভোগী এক মহিলা বলেন, একটি মূর্তি দিয়েছিলো আমাকে। বলেছে এটা খুলতে না। রাতে আমাকে দিয়ে নামাজ পড়িয়েছে। তারা মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা চেয়েছিলো।

পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, মূলত গাইবান্ধাসহ তার আশপাশের জেলাগুলোতে অবস্থান এসব কথিত জ্বীনের বাদশার। এ প্রতারকরা কখনো প্রকাশ্যে আসে না। সারাদেশে এজেন্টের মাধ্যমে তারা টাকা আদায় করে। এ ধরনের টাকা আদায় করতে গিয়ে বাকলিয়া এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তিন এজেন্ট।

এ প্রসঙ্গে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, তারা আমাদের বিস্তারিত অনেক তথ্য দিয়েছে। গাইবান্ধা থেকে তারা পুরো বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট ১২টি চক্র এদের নিয়ন্ত্রণ করে।

গ্রেফতারকৃত তিন এজেন্টের দাবি, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে কমিশনের ভিত্তিতে তারা কথিত জ্বীনের বাদশাকে টাকা আদায় করে দেয়। এমনকি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে গুপ্তধনের পিতলের মূর্তি তারাই রেখে আসে। তারা জানায়, মূর্তি দেখালেই মানুষ ভাবে এসব সত্য।

আটককৃত ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর কথিত জ্বীনের বাদশার সন্ধানে পুলিশ তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।