২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৩১
শিরোনাম:

দীপক আগারওয়াল নামে এক জুয়াড়ির কারণে শাস্তি পেয়েছেন সাকিব

স্পোর্টস ডেস্ক : হুট করেই দেশের ক্রিকেটে নেমে এসেছে এক কালো অধ্যায়। দুই বছর আগে জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপনের দায়ে শাস্তি পাচ্ছেন এখন। ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু যার কারণে এমন শাস্তি পেয়েছেন তিনি। কে সেই দীপক আগারওয়াল সাকিবের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণার পরপরই ক্রিকেটভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

যার কারণে ফেঁসেছেন সাকিব আল হাসান, সেই দীপক আগারওয়াল নামে এক জুয়াড়ির সাথে চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি কথা হয় সাকিবের। আইসিসির জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাবে তিনবার এই জুয়াড়ির সঙ্গে কথা হয় সাকিবের। কিন্তু পুরো বিষয়টি আইসিসিকে না জানিয়ে সাকিব নিজের মধ্যে রেখেছেন। সেই অপরাধে গতকাল মঙ্গলবার এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য সব রকমের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, দীপক আগারওয়াল একজন ভারতীয় এবং জুয়াড়ি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) কালো তালিকাভুক্ত এই জুয়াড়ি। তাই তার টেলিফোন কল রেকর্ড থেকে শুরু করে চালচলন, তার থাকা-খাওয়া সবকিছুর খোঁজখবর রয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে।

ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছেন আগারওয়াল। বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএলে) ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে বেশ কয়েকবার কারাগারে গেছেন তিনি।

২০১৩ সালে ফিক্সিংয়ের দায়ে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হন বলিউড অভিনেতা বিন্দু দারা সিং এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা গুরুনাথ মায়াপ্পান। ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আগারওয়ালের জড়িত থাকা কথা স্বীকার করেন তারা।
কয়েকবার জেলে গেলেও থেমে থাকেননি দীপক আগারওয়াল। চালিয়ে যান জুয়া। তিনিই সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সাকিব তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বিষয়টি গোপন রাখায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলো আইসিসি।

দীপক আগারওয়ালের সঙ্গে সাকিবের কথোপকথনের যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেটি অন্তত দুবছর আগের ম্যাচ নিয়ে। যেখানে বিষয়টি সাথে সাথেই জানাতে হয় আকসুকে। তা করেননি সাকিব, ফলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে আইসিসি। এছাড়া সাকিব আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ২৫টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। ফলে, আকসুর বিধিবিধান সাকিবের অজানা থাকার সুযোগ নেই।